শত্রুও যেন এরকম মিথ্যা মামলায় না ফাঁসায়: তৈমূর খন্দকার

তৈমূর আলম খন্দকার২০০১ সালের ১৬ জুনে সংঘটিত বোমা হামলার মামলায় অব্যাহতি পাওয়া নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, চার্জশিট দেওয়ার পর আমাদের ওপর যে কলঙ্ক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল সেটার অবসান ঘটেছে। কিন্তু এ চার্জশিট দেওয়ার ১২টি বছর আমাদেরকে মানসিক যন্ত্রণায় রাখা হয়েছিল। আমরা যে এ মামলাটির সঙ্গে সম্পৃক্ত নই সেটা এ সরকারই চার্জশিটে প্রমাণ করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করবো, আমাদের কেন ১২টি বছর মিথ্যে মামলায় যন্ত্রণা দেওয়া হলো। আবেদনে ওই ১২ বছর ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলবো।’ আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনও চরম শত্রুও যেন কাউকে এ ধরনের মিথ্যা মামলায় না ফাঁসায়। ব্যাপারটা পৈশাচিক। যারা আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে তারাও চরম জঘন্য।’

ঘটনার দীর্ঘ ১২ বছর পর দু’টি মামলায় ২০১৩ সালের ২ মে ছয়জনকে অভিযুক্ত ও ৩১ জনকে অব্যাহতি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দু’টি মামলার প্রত্যেকটির পরিপ্রেক্ষিতে ৯৪৭ পাতার চার্জশিট দাখিল করা হয়। এতে মামলার চার্জশিট থেকে জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকারসহ ৩১ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত ছয়জন হলেন নারায়ণগঞ্জে ক্রসফায়ারে নিহত যুবদল ক্যাডার মমিনউল্লাহ ডেভিডের ভোট ভাই শাহাদাতউল্লাহ জুয়েল, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান, ওবায়দুল্লাহ রহমান, ভারতের দিল্লি কারাগারে আটক সহোদর আনিসুল মোরসালিন, মুহিবুল মুত্তাকিন এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু।

অভিযুক্তদের মধ্যে জামিনে থাকা কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু ও ওবায়দুল্লাহ রহমান ছাড়া অন্যরা গ্রেফতার রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগ অফিসে ২০০১ সালের ১৬ জুন বোমা হামলার ঘটনার কিছুক্ষণ আগে ওই সময়ের সাংসদ শামীম ওসমানের কক্ষে তিনজন ব্যক্তি প্রবেশ করেছিলেন। তাদের মধ্যে একজন ওবায়দুল্লাহ হক ওবায়দুলকে, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভিসা আবেদন ফরমে সুপারিশের জন্য গিয়েছিলেন। বিস্ফোরণের পেছনে তাকেই দায়ী হিসেবে সন্দেহ করেন শামীম ওসমান।

/এইচকে/এফএস/