মাদারীপুরে কলেজ শিক্ষকের ওপর জঙ্গি হামলা

বিভাগীয় প্রধানের ছেলেকে আটক, পুলিশের অস্বীকার

মাদারীপুরমাদারীপুরের সরকারি নাজিমউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের গণিতের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীর ওপর হামলার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিভাগীয় প্রধান বেলায়েত হোসেনের ছেলে খালিদ সাইফুল্লাহ জামিলকে পুলিশ আটক করে নিয়ে গেছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। তবে মাদারীপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি এখনও স্বীকার করা হয়নি।

জামিলের পরিবার ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, সোমবার রাত ২টার দিকে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার গোপালপুর বড় মসজিদ থেকে খালিদ সাইফুল্লাহ জামিলকে আটক করে পুলিশ। এ সময় কালকিনি ও মাদারীপুর সদর থানা পুলিশের সদস্যরা ছিলেন বলে দাবি পরিবারের। তিনি ওই মসজিদে তারাবির নামাজে ইমামতি করতেন। পরে রাতেই পুলিশ জামিলের বাবা বেলায়েত হোসেনের বাড়িতে আসে। এ সময় তারা বাসায় তল্লাশি চালিয়ে চলে যায়।

এর আগে রাত ১টার দিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের জামিলের বন্ধু কালকিনি থানার কাছে বাঁশতলা মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ পারভেজ ও তারাবির নামাজের ইমাম সাজ্জাদ হোসেনকে আটক করে। এরপর পুলিশ জামিলের মামা গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক গোলাম রসুলের কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে এই তিনজনকেই ছেড়ে দেওয়া হয়।

গণিত বিভাগের প্রধান বেলায়েত হোসেন বলেন, রাতে প্রথমে আমার শ্যালক গোলাম রসুলকে সঙ্গে নিয়ে সাদা পোশাকে বাসায় আসে একদল পুলিশ। তারা আমার ছেলে সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানতে চায়। বাসার বিভিন্ন জিনিসপত্র তল্লাশি শেষে  তারা চলে যায়। তারা আমার ছেলে খালিদ সাইফুল্লাহ জামিলকে এর আগেই কালকিনি থেকে ধরে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মাদারীপুরের ওসি জিয়াউল মোর্শেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষক রিপন চক্রবর্তীর ওপর হামলা ও বন্দুকযুদ্ধে নিহত ফাইজুল্লাহ ফাহিমের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেনের দাবি, এ ধরনের কাউকে আটক বা গ্রেফতারের বিষয়ে মাদারীপুরের পুলিশ কিছু জানে না। যদি ঢাকা থেকে কোনও টিম এসে আটক বা গ্রেফতার করে তবে আলাদা বিষয়। তিনি এই বিষয়েও কিছু জানেন না।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন মাদারীপুরের গণিত বিভাগের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীর ওপর জঙ্গি হামলা চালিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে তিন দুর্বৃত্ত। এ সময় জনগণের ধাওয়ায় ফাইজুল্লাহ ফাহিম নামে একজন আটক হয়। পরে পুলিশের কাছে ১০ দিনের রিমান্ডে থাকা অবস্থায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তিনি। এ ঘটনায় দায়ের মামলায় ছয় আসামির মধ্যে এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

আরও পড়ুন: 

বাবুল আক্তার জড়িত কিনা সে প্রসঙ্গ এখনও আসেনি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

/বিটি/টিএন/