নারায়ণগঞ্জে আবাসিক এলাকায় গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে কারখানা ভাঙচুর, পুলিশের গুলি

photo 13নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জে কয়েকটি শিল্প কারখানায় বোস্টার মেশিন দিয়ে অতিরিক্ত গ্যাস টানায় আবাসিক গ্রাহকদের সংকট হচ্ছে এমন অভিযোগে মঙ্গলবার বিকালে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। ওই সময়ে বিক্ষুব্ধ জনতা একটি রপ্তানিমুখী কারখানায় ভাঙচুর করে। বাধা দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি উত্তরপাড়া এলাকার ভিবজিওর নিট কম্পোজিট, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে নাছির রি রোলিং মিলস, পশ্চিমপাড়া ওয়াপদা রোড এলাকার ভান্ডারী ডাইং, কাঠপট্টি এলাকার জালকুড়ি ডাইং, পশ্চিমপাড়া এলাকার শাকিল ডাইং এর কারণে আবাসিক গ্রাহকরা গ্যাস পাচ্ছেন না। মালিকপক্ষ সংযোগ পাইপের মুখে কম্প্রেসার স্থাপন করে আবাসিক লাইনের গ্যাসের পুরোটাই টেনে নিচ্ছে। এতে করে প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত গ্যাস পাননা আবাসিক এলাকার গ্রাহকরা।

photo 3এর জেরে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় জালকুড়ি ও আশপাশ এলাকার কয়েক হাজার জনতা মিছিল বের করে। ওই সময় লোকজন ভিবজিউর নিট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানায় হামলা করে প্রধানফটক ভেঙে ভিতরে ঢুকে কারখানার চারটি গাড়ি, আসবাবপত্র, জানালার গ্লাস, মেশিন ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গে এলাকাবাসীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় এলাকাবাসী পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল মারতে থাকে। পুলিশও পাল্টা রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই মাজহার ও হারুন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের এসআই রশিদ, সাংবাদিক মোস্তাক আহমেদ শাওন সহ ১৫ জন আহত হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ জাকারিয়া জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১০-১২ রাউন্ড শটগানের গুলি ছুড়েছে। পুলিশের ৫/৬ জন সদস্য সামান্য আহত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। 

নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশ-৪ এর পুলিশ সুপার সানা শামীনুর রহমান জানান, স্থানীয় লোকজনের দাবি ওই শিল্প প্রতিষ্ঠানটির কারণে তারা গ্যাস পাচ্ছেন না। এ অভিযোগেই হামলা করেছে।

photo 5এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক অফিসের জিএম শফিকুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এর আগে একটি যৌথ সার্ভে করেছিলাম। কিন্তু ওই সময় কোনও বুস্টার মেশিন কিংবা অন্য কোনও সংযোগ পাইনি। মঙ্গলবার এলাকাবাসীর বিক্ষোভের পর আবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তিতাস গ্যাস ও এলাকাবাসীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে যৌথ সার্ভে করা হবে। যে সময়ে এলাকাবাসী গ্যাস পায় না সে সময় সার্ভে করা হবে।

এ ঘটনায় কারখানার কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:

মিডিয়ার কারণেও জিনিসপত্রের দাম বাড়ে!

ভোলা ‘খুনিদের’ অস্ত্র দেয়, সরবরাহ করে মনির

 

/বিটি/