মৃন্ময় ফকিরহাটের পুটিয়া গ্রামের মৃত্যুঞ্জয় মজুমদারের ছেলে। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞানের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ও জাবি প্রেসক্লাবের সদস্য।
ছুরিকাঘাতে তার গলার দুই পাশ, তলপেটের কিডনি বরাবর স্থানসহ পেটের তিনটি স্থান ও বাম হাত মারাত্মক জখম হয়েছে। গলার ডান পাশে ও বাম হাতের উপরের অংশে কোনো অনুভূতি নেই বলে জানান মৃন্ময়। প্রথমে ফকিরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও সবশেষে বর্তমানে খালিশপুরের মনীষা ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। মনীষা ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. প্রণব কান্তি সরকার জানান, মৃন্ময় এখন অনেকটাই আশঙ্কামুক্ত।
মৃন্ময় মজুমদার জানান, সোমবার রাতে তিনি ঢাকা থেকে দিগন্ত পরিবহনে ফকিহাটের ফলতিতা বটতলা নামক স্থানে নামেন। এরপর ভ্যানের জন্য অপেক্ষার এক পর্যায়ে একটি ভ্যানে ওঠেন। ওখানে চালক ও আরও তিনজন যাত্রী ছিল। ভ্যানটি প্রথমে তাকে নিতে না চাইলেও পরে নেওয়ার জন্য পেছন ফেরে। কলকলিয়া এলাকার একটি ফাঁকা স্থানে পৌঁছুলে চালক ভ্যানটি থামিয়ে দেয়। এরপর যাত্রীবেশী ছিনতাইকারীসহ চারজন মিলে গামছা দিয়ে তার হাত, পা ও মুখ বেঁধে ফেলে।
তার কাছে থাকা নগদ ৫ হাজার টাকা, ২টি মোবাইল সেট, ব্যাংকের এটিএম কার্ডসহ অন্যান্য কাগজপত্র ও কাপড় চোপড়ের ২টি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার পরে ছিনতাইকারীরা তার নাম জানতে চায়। নাম শোনার পর মৃন্ময়ের ধর্মীয় অবস্থান পরীক্ষা করার জন্য তার পরনের কাপড় খোলে। এরপর ওই দলের একজন তাকে জবাই করার নির্দেশ দেয়।
এই নির্দেশ পাওয়ার পরই দা দিয়ে তার গলায় আঘাত করা হয়। ছুরি দিয়ে পেটে ও হাতে আঘাত চলতে থাকে। এক পর্যায়ে চিৎকার করতে করতে নীরব হয়ে যান মৃন্ময়। তখন ছিনতাইকারীরা তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
রক্তক্ষরণ সত্ত্বেও মৃন্ময় ওখান থেকে উঠে আধ কিলোমিটার দূরে থাকা বোন ইতির বাড়িতে যান। স্বজনরা তাকে ফকিরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। ওখান থেকে ভোর ৬টার দিকে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর তাকে খালিশপুরের মনীষা ক্লিনিকে নেওয়া হয়। এখন সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
মৃন্ময় জানান, ছুটি কাটানো অসুস্থ ভাই অমিতকে দেখার উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি গ্রামে আসছিলেন। ভাই অমিত মনীষা ক্লিনিকে ভর্তি আছে। তাই তাকেও হাসপাতাল থেকে ক্লিনিকে আনা হয়েছে। মৃন্ময় আরও জানান, দায়ের তিনটি আঘাত তার গলায় রয়েছে। এর মধ্যে ডান পাশের আঘাতটি বেশি গভীর। এ আঘাতের কারণে স্নায়ুকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই অবস্থা বাম হাতের আঘাতেও। ফলে গলার ডান পাশ ও বাম হাতের ওপরের অংশে অনুভূতি শক্তি নেই। পেটের কিডনি বরাবর আঘাতটিও যন্ত্রণা দিচ্ছে।
মনীষা ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. প্রণব কান্তি সরকার বলেন, এখন মৃন্ময় আশঙ্কা মুক্ত রয়েছেন। তিনি গলা ও হাতে অনুভূতিহীনতার কারণ সম্পর্কে বলেন, স্নায়ুকোষ ক্ষতিগ্রস্ত বা উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিবায়েটিক দেওয়ার প্রভাবে এমনটি হতে পারে। মাসখানেক না গেলে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব না।
ওসি বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনার পর মৃন্ময়ের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে যা পুলিশ তদন্ত করছে। অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মঙ্গলবার বিকালেও পাশের আরেকটি স্থানে রেবা বেগম নামে আরেকজন মহিলার মালামাল ছিনতাই হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এলাকায় ছিনতাইকারীদের দমনে পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে।
/এইচকে/
আরও পড়ুন: সাতক্ষীরায় শিশু ফাহিম হত্যা: ইসরাফিলের মা ও ভাই ২ দিনের রিমান্ডে