ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে লক্কর-ঝক্কর গাড়ি মেরামত ও রং চংয়ের কাজ চলছে পুরোদমে। ফিটনেসবিহীন এসব গাড়ি মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছে মানিকগঞ্জের বেশ কয়েকটি ওয়ার্কসপের কারিগর ও মিস্ত্রিরা।
রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের প্রায় ২১টি জেলায় সড়ক পথে যাতায়াতের অন্যতম পথ ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক। ঈদে ক্রটি মুক্ত যাত্রীবাহী গাড়ির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফিটনেসবিহীন শত শত যানবাহনের চাপ বেড়ে যায় এই পথে। উপরে রং চং লাগিয়ে লক্কর-ঝক্কর এসব গাড়ি সড়কে নামানোর সঙ্গে সঙ্গে কোথাও না কোথাও বিকল হয়ে পড়ে থাকতেও দেখা যায় অহরহ। ফলে রং চং মাখানো এসব গাড়ির কারণে ঈদে ঘরমুখো মানুষজন রাস্তায় ভোগান্তির শিকার হন।
শুক্রবার সরেজমিন মানিকগঞ্জের গাড়ি মেরামতের কয়েকটি কারখানায় গিয়ে দেখা গেছে, ফিটনেসবিহীন ভাঙাচোরো গাড়িগুলো জোড়াতালি দেওয়া হচ্ছে ওয়ার্কসপে। গ্যারেজের মিস্ত্রিরা এসব গাড়ি মেরামতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। কোনও গাড়ির ইঞ্জিন ও ব্রেকে সমস্যা কিংবা সিটগুলো ছেঁড়া। আবার কোনও গাড়ির বডিতে রং চং নেই। ঈদের সময় বহু পুরাতন এসব গাড়িগুলো মেরামত করে নতুন সাজে রোডে নামানো হচ্ছে। বিশেষ করে ২৫-২৬ রোজার পর ফিটফাট এই গাড়িগুলো রোডে নামানো হবে বলে জানিয়েছেন ওয়ার্কশপের কর্মচারীরা।
মানিকগঞ্জের উচুটিয়া এলাকায় রাব্বি মটরর্সের মাসুদ জানালেন,ঈদকে সামনে রেখে তাদের গ্যারেজে পুরাতন গাড়ির কাজ বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। গাড়িতে রং চং ও ইঞ্জিনের ক্রটিগুলো মেরামত করা হচ্ছে বেশি।
ওই গ্যারেজের রং মিস্ত্রি উজ্জল জানালেন,পুরাতন গাড়ি ঈদের সামনে রং করে নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে। যাতে যাত্রীরা আকৃষ্ট হয়। সময় মতো ডেলিভারি দেওয়ার জন্য দিন-রাত গাড়িতে রংয়ের কাজে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে।
গ্যারেজে মেরামতের জন্য আনা যাত্রীসেবা বাসের চালক শান্ত জানালেন, ঈদের সময় প্রত্যেক যাত্রীই চায় রং চং করা সুন্দর গাড়িতে উঠতে। তাই বাসের ভেতরের সিট, বডিতে রং ও ইঞ্জিনের কাজ করাতে তার গাড়িটি গ্যারেজে আনা হয়েছে।
পাশেই সানি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপের দেখা গেল, লক্কর ঝক্কর দুটি বিআরটিসি, ভিলেজ লাইন, শুভযাত্রাসহ কয়েকটি বাস মেরামতে কাজ করছেন সেখানকার মিস্ত্রিরা। কেউ বাসে রং করছে, আবার কেউ ইঞ্জিন খুলে বসেছে আবার কেউ সিট ও বডির কাজ করছে।
ভিলেজ লাইনের চালক আওলাদ হোসেন জানান,ঈদের সময় রোডে গাড়ির ফিটনেস না থাকলে ঝুঁকি থাকে বেশি। তাই ক্রটি, ফাটা কাজ করাতে গ্যারেজে নিয়ে আসা।
বাস চালক সোহবাব হোসেন জানালেন, ঈদের সময় গাড়ির ফিটনেস না থাকলে পুলিশ ও সার্জেন্টরা বিরক্ত করে। তাই রংয়ের কাজ করানো হচ্ছে। দেখে বোঝার উপায় নেই কোনটা পুরাতন আর কোনটা নতুন।
এদিকে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে প্রতিনিয়ত চলাচলকারী যাত্রীরা বলছেন, ঈদ এলেই রোডে লক্কর ঝক্কর গাড়ির দৌরাত্ব বেড়ে যায়। ফিটনেসবিহীন বহু বছরের পুরাতন গাড়িগুলো রং করে রোডে চলাচল করলেও রোড সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনও মনিটরিং দেখা যায় না।
বাস যাত্রী শহীদ আহমেদ লাভলু জানালেন, রং চং মেখে গাড়িগুলো রোডে নামানোর ফলে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের এসব বিষয়ে নজরদারি থাকলে ঈদে পুরানো ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলো চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আতাউর রহমান তোহা জানালেন, লক্কর ঝক্কর বাসের পাশাপাশি মহাসড়কে টেম্পো, সিএসজিচালিত অটোরিকশা চলাচল আবারও বেড়ে গেছে। এসব গাড়ি মহাসড়কে চলাচল বন্ধ না হলে ঈদে দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান বলেন, উৎপত্তি স্থল থেকে আনফিট যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনা গেলেই এটি সম্পূর্ণভাবে রোধ করা সম্ভব। তারপরও ঈদে ফিটনেসবিহীন গাড়ি যাতে চলাচল করতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
/বিটি/টিএন/
আপ: এইচকে
আরও পড়ুন: ঈদের ছুটি: ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক ফাঁকা