গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার দুই হাজার মানুষ দেড় মাস যাবত পানিবন্দি হয়ে আছেন। পানিতে কারও মাটির ঘর ভেঙে গেছে, কারও বা গবাদি পশু রাখতে পারছে না। এছাড়া শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুলে যাতায়াত করতে পারছে না।
শ্রীপুর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের (মাওনা-চৗরাস্তা) বেগুনবাড়ি এলাকায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। শ্রীপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ওই এলাকায় ড্রেনসহ রাস্তা নির্মাণের কার্যাদেশ দিয়েছেন। তবে জলাবদ্ধতার কারণে কাজ শুরু করতে পারছেন না।
বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) সরেজমিন সাংবাদিকরা ওই এলাকায় যান। এ সময় গৃহিণী পূর্ণিমা রানী বলেন, ‘এক মাস পর বাসা থেকে বের হয়েছি। দেড় মাস যাবত পানিবন্দি হয়ে আছি।’
পোশাক শ্রমিক অনন্যা রানী বলেন, ‘জলাবদ্ধতার কারণে রাতে বাসায় ফিরতে ভয় হয়। অনুমানের ওপর হাঁটতে গিয়ে কয়েকদিন পা পিছলে পড়েছি।’
আব্দুল মোতালেব বলেন, ‘জলাবদ্ধতার কারণে মাটির তৈরি বসতঘর ভেঙে গেছে। বাড়ি থেকে গরু-ছাগল বের করতে পারি না। সবসময় ঘরে পোকামাকড়, সাপ ঢুকছে। আতঙ্কের মধ্যে আমাদের দিন কাটছে।’
খাদিজা বেগম নামে আরেকজন বলেন, ‘চুলার ভেতর পানি ঢুকেছে। রান্না করতে পারি না। বাজার থেকে খাবার কিনে এনে খেতে হয়। বাইরের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছি।’
স্থানীয় অ্যাডুকেয়ার প্রি-ক্যাডেট অ্যান্ড স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাঈম শিখা জানায়, মাথায় ছাতা, কাঁধে ব্যাগ, এক হাতে স্যান্ডেল আরেক হাতে কাপড় টেনে তুলে স্কুলে যেতে হয়।
শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী কলেজের প্রভাষক ইয়াসমিন আক্তার বলেন, বাসা থেকে বের হয়ে আবার হাত-পা ধুয়ে কর্মস্থলে যেতে হয়। দুর্ভোগ এখন বেগুনবাড়ি এলাকাবাসীর জন্য স্থায়ী হয়ে গেছে।
সাফিয়া নামের আরেক গৃহীণী বলেন, ‘পানির কল ডুবে গেছে। ঘরের আসবাবপত্র পচে-গলে যাচ্ছে। অনেকের ঘরে পানি ঢুকেছে। গত দেড় মাসেও কোনও জনপ্রতিনিধি আমাদের খোঁজ-খবর নিতে আসেনি।’
ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান বলেন, বেগুনবাড়ি থেকে পানি বের করার জন্য কোনও পরিকল্পিত ড্রেন নেই। গত বছর এলাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা চাঁদা তুলে রাস্তায় বালি ভরাট করেছিলাম। এবারের বর্ষায় রাস্তাটি আবার ডুবে গেছে।
শ্রীপুর পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইজ্জত আলী ফকির বলেন, ‘আমি নিরূপায়। পানি সরানোর কোনও সুযোগ নেই। জলাবদ্ধতা চোখে দেখা ছাড়া এ মুহূর্তে আমার কিছু করার নেই।’
শ্রীপুর পৌরসভার প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন জানান, বেগুনবাড়িতে ড্রেনসহ একটি রাস্তা নির্মাণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এজন্য ১৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্ষার জন্য কাজ করা যাচ্ছে না। তবে পানি নিষ্কাশনের জন্য আমাদের একটা উপায় বের করার চিন্তা রয়েছে।
/বিটি/এসটি/