২ বিজিবি সদস্য হত্যা মামলায় ৫০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

নারায়ণঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) দুই সদস্য হত্যা মামলায় ৫০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই ৫০ জনের মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য সচিব, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রশিদুর রহমান রশোর নাম রয়েছে। এছাড়াও সিদ্ধিরগঞ্জ মাদানীনগর মাদ্রাসার মোয়াজ্জিম মুফতি বশির উল্লাহকে পলাতক দেখানো হয়েছে।

রবিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিটটি দাখিল করা হয়। ২০১৩ সালের ৬ মে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে দুই বিজিবি সদস্য নিহত হয়।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, ডিবির এসআই সেলিম মিয়া তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন। এতে ৫৬ জনকে সাক্ষী দেখানো হয়েছে। এছাড়া নিহত বিজিবি সদস্যদের একটি বুলেট প্রুফ জ্যাকেট, একটি চায়না এসএমজি রাইফেল এবং  ভাঙচুর করা দুইটি ও পুড়িয়ে দেওয়া একটি পিকআপ ভ্যানসহ ১০টি আলামত দেখানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, পিলখানার ৪৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ান সুবেদার আলী হোসেন বাদী হয়ে ২০১৩ সালের ৬ মে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, ৬ মে ভোর ৫টায় নায়েক সুবেদার শাহ আলমের নেতৃত্বে ৬টি পিকআপে করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৬২ সদস্য দুভাগে সিদ্ধিরগঞ্জ আসে। এর একটির নেতৃত্বে ছিলেন সুবেদার শাহ আলম আর অপরটির নেতৃত্বে ছিলেন মামলার বাদী সুবেদার আলী হোসেন। ভোর পৌনে ৬ টায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে হেফাজতে ইসলাম, বিএনপি ও জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা পুলিশ ও বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। এসময় তাদের হামলায় নায়েক সুবেদার শাহ আলম ও সিপাহী লাভলুর মৃত্যু হয়। এরপর বিক্ষোভকারীরা তাদের ২টি পিকআপ ভাঙচুর করে একটি পিকআপে আগুন ধরিয়ে দেয়। ছিনিয়ে নেয় একটি এসএমজি রাইফেল। পরে সেটি ম্যাগাজিন ছাড়া উদ্ধার করা হয়।

 /জেবি/এসটি/