নারায়ণগঞ্জে সাত খুন: চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ

নারায়ণগঞ্জে সাতখুননারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলায় র‌্যাবের এক কর্মকর্তাসহ চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

সোমবার সকাল পৌনে ১০টা থেকে সোয়া ১১টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে মামলায় গ্রেফতার প্রধান আসামি নূর হোসেনসহ ২৩ আসামির উপস্থিতিতে ওই চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা করা হয়।

এ নিয়ে সাত খুনের দুটি মামলায় অভিন্ন ১২৭ আসামির মধ্যে ৯২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হলো।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, সোমবার র‌্যাব-১১ এর সাবেক পরিচালক এএসপি মোবারক হোসেন, নিহত সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকারের মোবাইল ফোন যার কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছিল, সেই ইয়াছিন ওরফে শিপন, যিনি মোবাইল ফোন উদ্ধারের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কামাল হোসেন, নদী থেকে বস্তা ও ইটবাঁধা লাশ উদ্ধারের প্রত্যক্ষদর্শী হেকিম মিয়ার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, সাত খুনের দুই মামলায় এ পর্যন্ত ৯২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত আগামী ১ আগস্ট পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল সাতজনকে অপহরণের পর ৩০ এপ্রিল ও ১ মে শীতলক্ষ্যা থেকে সাতজনের লাশ পাওয়া যায়। পরে ৩ মে অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের মোবাইল ফোন ব্যবহারে জড়িত থাকায় ইয়াছিন ওরফে শিপন নামের একজনকে রাজধানী ঢাকা থেকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকেই চন্দন সরকারের নকিয়া ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোনসেটটি পাওয়া যায়। তিনি পেশায় প্রাইভেটকার চালক।

অপহরণের পর রাজধানীর নিকেতনে চন্দন সরকারের গাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই গাড়িতে পড়ে থাকা মোবাইল ফোনসেট নিয়ে পালিয়ে যান গাড়িচালক রতন। এরপর সেটি তার ভাতিজা শিপনকে দেন। চন্দন সরকার মূলত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে খান সাহেব স্টেডিয়ামের সামনে নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের র‌্যাবের গাড়িতে তুলে নেওয়ার সময় তার মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন।

জানা যায়, সাত খুনের ঘটনায় দুটি মামলা হয়। একটি মামলার বাদী নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল ও অপর বাদী নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি। দুটি মামলাতেই অভিন্ন সাক্ষী ১২৭ জন করে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন।

পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্ত শেষে প্রায় এক বছর পর গত ৮ এপ্রিল নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাত খুনের দুটি মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

এ মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। আর চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে এখনও ১২ জন পলাতক রয়েছেন।

/এবি/