‘সড়কতো নয়, যেন ছোট জলাশয়। দূর থেকে দেখলে অনেকটা তাই মনে হয়।’ কথাগুলো বলছিলেন কোনাবাড়ী-কাশিমপুর সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী গাড়িচালক নাজমুল ইসলাম।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ী-কাশিমপুর সড়কের বেহাল দশার কারণে তিন মাস ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। আর এখন এলাকাবাসী পায়ে হেঁটেও চলাচল করতে পারছে না এ সড়কে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ী থেকে কাশিমপুর পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তা। গত ৩/৪ মাস আগে রাস্তাটির কোনাবাড়ীর দিক থেকে নতুন করে সংস্কার কাজ শুরু হয়। এক কিলোমিটারের কম জায়গা আরসিসি ঢালাই করা হয়েছে। রাস্তার এক পাশ দিয়ে করা হয়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বাকি অংশের কাজ বন্ধ থাকায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আর এসব গর্তে পানি জমে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
কাশিমপুর বাজারের ব্যবসায়ী সুলতান মিয়া জানান, তাকে দোকানের মালামাল ক্রয় করতে প্রতিদিনই কোনাবাড়ি যেতে হয়। রাস্তার বেহাল দশার কারণে ৪/৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে তাকে কোনাবাড়ি যেতে হয়।
জরুন এলাকার কেয়া স্পিনিং কারখানার শ্রমিক সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন কারখানা কাজে যেতে হয় এই রাস্তা দিয়ে। রাস্তায় বড় বড় গর্ত হওয়ায় পায়ে হেঁটেও চলাচল করা যায় না। বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে রিকশা করে কর্মস্থলে যেতে হয় তাকে।
রবিবার সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কোনাবাড়ী থেকে হরিণাচালা পর্যন্ত আরসিসি ঢালাই করে রাস্তা নির্মাণ করা হলেও তা খুলে দেওয়া হয়নি। এরপর থেকে কাশিমপুর পর্যন্ত ৪/৫ কিলোমিটার রাস্তার পুরোটাই বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে এখন পানি জমে পুকুরের মতো সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ও স্থানীয় কারখানার শ্রমিকদের কাদা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। কয়েকটি স্থানে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটো রিকশা বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
কোনাবাড়ি হরিণাচালা এলাকার বাসিন্দা এসকিউ সেলসিয়াস লিমিটেড ইউনিট-১ এর রক্ষণাবেক্ষণ শাখার ব্যবস্থাপক আকতারুজ্জামান জানান, রাস্তা খারাপ থাকায় রিকশায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে চলাচল করতে হয়। বিষয়টি জন প্রতিনিধিদের জানানো হলেও সমাধান হচ্ছে না।
স্কুলশিক্ষক সাদিয়া সুলতানা মৌ জানান, সড়কটির আশপাশে কয়েকটি কিন্ডারগার্টেনে শতাধিক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। ফলে স্কুলে যাওয়ার সময় না হয় ফেরার সময় জামা কাপড় নষ্ট হয়ে যায় কাদা মাটিতে। ছোট বাচ্চারা পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতে পারে না। তিনি দ্রুত রাস্তার সংস্কারের দাবি জানান।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত কাউন্সিলর (৪, ৫, ৬ নম্বর ওয়ার্ড) মহমুদা আক্তার জানান, কোনাবাড়ী-কাশিমপুর সড়কের জরুন থেকে তার এলাকা শুরু হয়েছে। কিন্তু সেখান থেকে তার পুরো এলাকার রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। মানুষ চলাচল করতে পারছে না। এলাকার এখন প্রধান সমস্যা রাস্তার বেহাল অবস্থা।
সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সেলিম রহমান জানান, ওই সড়কে কিছু অংশ কাজ করা হয়েছে। বাকি অংশের কাজও পর্যায়ক্রমে করা হবে।
আরও পড়ুন: বদমেজাজি নাজমুল হুদার কাজই ছিল নির্যাতন করা
/এসএনএইচ/টিএন/আপ-এআর/