১৯৯৮ সালের ২০ আগস্ট শুরু হওয়া ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করলে ১৯৯৯ সালের আজকের এই দিনে ছাত্রলীগের ‘খুনি’ ও ‘রেপিস্ট’ গ্রুপ ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত হয়। এই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রণিত হয় বাংলাদেশের কর্মপ্রতিষ্ঠানে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে ‘যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালা।’
ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট ও গণতান্ত্রিক ছাত্র ঐক্য ‘সাধারণ ছাত্র ঐক্য’র ব্যানারে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল। সেই থেকে ২ আগস্টকে খুন ও ধর্ষণ প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে এই সংগঠনগুলো।
দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করেছে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট।
সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জোবায়ের টিপু বলেন, ‘১৯৯৯ সালের ২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে খুনী ও ধর্ষকদের বিতাড়িত করেছিল। কিন্তু আমরা খেয়াল করছি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিচারহীনতায় আবার সেই ধারা ফিরে এসেছে। নিপীড়নকারীরা বেশ নিরাপদেই ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে। তাই ২ আগস্টের হাতিয়ারদের বারবার গর্জে উঠতে হবে।’
ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি দ্বীপাঞ্জন সিদ্ধান্ত কাজল বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগরের সবুজ ক্যাম্পাসে খুনি ধর্ষকদের স্থান হয়নি, হতে দেওয়া হবে না।
প্রত্যেকটি কর্মসূচিতে উচ্চারিত হয়েছে খুন, ধর্ষণ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়। এছাড়া সুন্দরবনকে বাঁচানোর আবেদনও উঠে এসেছে সাংস্কৃতিক কর্মীদের কাছ থেকে।
দিবসটি পালনে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদও।
সন্ধ্যায় ‘অমর একুশ’র পাদদেশে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করবে সংগঠনটি। এছাড়া সন্ধ্যা ৭টায় সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। আলোচক হিসেবে থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন, সাংবাদিক রাশেদ মেহেদী ও ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সভাপতি লুনা নুর। সভা শেষে প্রদর্শিত হবে বটতলা নাট্যদলের নাটক ‘আর চুপ থাকা নয়’।
আরও পড়ুন:
বিরোধ বাড়ি নিয়ে, ফাঁসাতে জঙ্গি আস্তানার অভিযোগ, পুলিশে তোলপাড়
/বিটি/