‘পুলিশের ধাওয়ায়’ পানিতে ডুবে যুবকের মৃত্যু, গণপিটুনিতে পুলিশ নিহত


নিহত আবদুল মতিনের পরিবারের আহাজারিনারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুকুরে পড়ে যুবকের মৃত্যু ও পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে পুলিশের এক কনস্টেবলের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকাল ৬টার দিকে সোনারগাঁও পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের রাইজদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম আবদুল মতিন (৪০)। নিহত পুলিশ কনস্টেবলের নাম আরিফুর (৩৫)।
সোনারগাঁও থানার ওসি মঞ্জুর কাদের জানান, বিকাল ৬টার দিকে সোনারগাঁও থানার এএসআই ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল পৌরসভার রাইজদিয়া এলাকাতে আবদুল মতিন নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে অভিযানে যায়। ওই সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আবদুল মতিন দৌড়ে পালানোর সময় দুর্ঘটনাক্রমে একটি পুকুরে পড়ে ডুবে মারা যায়। 
নিহত আবদুল মতিনএরপর এলাকার লোকজন ‘পুলিশের ধাওয়ায়’ মতিনের মৃত্যুর কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে পুলিশের কনস্টেবল আরিফুর মারা যান। আহতদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ওসি জানান, আবদুল মতিন যখন পানিতে নামে, কনস্টেবল আরিফও তাকে ধরতে নৌকা নিয়ে পানিতে নেমে যায় এবং মতিনের কাছে গিয়ে লাঠি দিয়ে মতিনকে পিটিয়ে আহত করে। পুকুরের চারদিকে এলাকার লোকেরা দাঁড়িয়ে তখন আরিফকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে থাকে। পরে মতিনকে স্থানীয়রা তুলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে পথে সে মারা যায়। আরিফ পুকুর ছেড়ে ওপরে ‍উঠতে গেলে স্থানীয়রা তখন তার ওপর চড়াও হয়। আরিফকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে সে মারা যায়।   নিহত আবদুল মতিন পানাম নগরীপুল এলাকাতে একটি পানের দোকানদার বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানান, মতিন মূলত মাদক সেবন করেন। নিহত মতিনের পরিবারের দাবি, মাদক ব্যবসায়ী তিনি ছিলেন না। দোকানদারির পাশাপাশি গরু ও মুরগি পালন করতেন।  
নিহত-কনস্টেবল-আরিফজানা যায়, আবদুল মতিন উপজেলার রাইজদিয়া গ্রামের মোসলেমউদ্দিনের ছেলে। তিন মেয়ে ও এক ছেলের জনক তিনি। তিন মেয়ে বিবাহিত। ছেলে জোবায়ের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে কাজ করেন। পানাম নগরের বাজারে মতিনের একটি পানের দোকান আছে।

সোনারগাঁও পৌরসভার সংরক্ষিত নারী (৪, ৫, ৬ নম্বর ওয়ার্ড) কাউন্সিলর জায়েদা আক্তার মনি বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, মতিন পানের দোকানদারি করতো। মুরগির ব্যবসা ছিল তার। আমার জানামতে সে খুব ভালো লোক ছিল। কখনও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনিনি।
পুলিশ রাত পৌনে ৮টায় মতিনের বাড়িতে এসে হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসা লাশটি নিয়ে গেছে। 

/এইচকে/

আরও পড়ুন: বন্দুকযুদ্ধে নিহত জেএমবি নজরুল পঞ্চগড়ে পুরোহিত হত্যারও আসামি