পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসেও আশ্বস্ত হতে পারছেন না নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও পৌরসভার রাইজদিয়া গ্রামের বাসিন্দারা। এই গ্রামেই গত ২ আগস্ট এক মুদি দোকানিকে ‘হত্যার’ ঘটনায় স্থানীয়দের গণপিটুনিতে পুলিশের এক সদস্য মারা যায়। ওই ঘটনার পর পুলিশ গ্রামবাসীকে অভিযুক্ত করে দায়ের করে মামলা। যার কারণে পুরো গ্রাম হয়ে পড়েছে পুরুষশুন্য।
গ্রামবাসীদের বক্তব্যে জানা যায়, পুলিশের মামলায় তারা বেশ ভীত। কোনও কিছুতেই তারা এখন আশ্বস্ত হতে পারছেন না। পুলিশের পক্ষ থেকে মুখে এক আর কাজে আরেক করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
নিহত আবদুল মতিনের স্ত্রী নূরতাজ বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পুলিশের জন্যই আমাদের আতঙ্ক কাটছে না। পুলিশ বারবার বলছে যে কিছুই হবে না, নিরাপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হবে না। তাহলে কেন আমাদের পরিবারের লোকজনদের আসামি করা হলো?
তিনি আরও বলেন, যেখানে পুলিশ আমার চোখের সামনে আমার স্বামীকে পানিতে চুবিয়ে মারলো, সেখানে আমরা তো বিচার পাইলাম না, উল্টো আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। মামলায় আমাদের পরিবার ও গোষ্ঠীর লোকজনদের আসামি করা হয়েছে।
এর আগে, ৬ আগস্ট পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি (অপরাধ) মোহাম্মদ আলী মিয়া সোনারগাঁও পৌরসভার রাইজদিয়া গ্রাম পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেন যে, পুলিশ নিরীহ কাউকেই হয়রানি করবে না। এছাড়া তদন্ত করে যদি কোনও পুলিশ সদস্যের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণ হয় তাহলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
সোনারগাঁও থানার ওসি মঞ্জুর কাদের জানান, আমরা এলাকার লোকজনদের ঘরে গিয়ে নিশ্চিত করেছি যে কাউকে অহেতুক হয়রানি করা হবে না। গ্রামছাড়া পুরুষেরা যাতে ফিরে আসার কথাও বলেছি। আশা করছি ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট বুধবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও পৌরসভার রাইজদিয়া গ্রামে আবদুল মতিন নামের এক পান দোকানদারকে ‘মাদকবিক্রেতা’ আখ্যা দিয়ে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করে পুলিশ। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে পুলিশ কনস্টেবল আরিফুর মারা যায়। এ ঘটনায় ৩ আগস্ট পুলিশের সহকারী পরিদর্শক (এসআই) আলামিন তালুকদার বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০-৩৫ জনকে আসামি করে মামলা করে।
/এমও/