এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সাক্ষ্য গ্রহণ চলার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এর জবাবে নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক সোহেল আলম বলেন, ‘বেশিরভাগ জঙ্গি সদস্যের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় মামলা রয়েছে। তাই অনেক সময় তাদেরকে নির্ধারিত তারিখে হাজির করা সম্ভব হয় না। এ কারণে তারিখ পিছিয়ে যায়।’
নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এস এম ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলোর প্রায় সবই আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলাগুলোর সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। আশা করা যাচ্ছে অচিরেই মামলার কাজ শেষ হবে।
ওই দিন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত ও জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে দুটি স্পটে বোমা বিস্ফোরণ ঘটলেও কোনও হতাহতের ঘটেনি। এ ঘটনায় সে সময়ের ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রথমাবস্থায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। পরবর্তীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি এর দায় স্বীকার করায়, এ সংগঠনের প্রধানসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে ২০০৬ সালের ২৯ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ।
এতে অভিযুক্ত ১৪জন হলেন, জেএমবির প্রধান শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই, সাইফুল্লাহ, আকতার হোসেন, আবুল হোসেন, আতাউর রহমান সানি, তানভীর ওরফে জিয়াউর, ওবায়দা ওরফে জিয়াউল, রবিউল ইসলাম, আরিফুল, ফতুল্লার শাসনগাঁও এলাকার আবদুল আজিজ, আতাউর রহমান, রকিবুল ইসলাম ও মাজু মিয়া।
আসামিদের মধ্যে অন্য মামলায় আবদুর রহমান, বাংলা, সাইফুল্লাহ, আকতার হোসেন ও আবুলে হোসেনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। অন্য আসামিরা গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছে।
ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সশস্ত্র যুদ্ধ শুরুর ঘোষণা দিয়ে জেএমবি ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে দেশের মুন্সিগঞ্জ ছাড়া সবগুলো জেলায় একাধিক স্পটে বোমা হামলা করে। সংগঠনটি জঙ্গি সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে ইতোমধ্যে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে।
/এইচকে/
আরও পড়ুন: সিরিজ বোমা হামলার ১১ বছর: উত্থান ঘটেছে নব্য জেএমবির