স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ঈদ উল আজহাকে সামনে রেখে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্যোগে বিকেনগর বঙ্গবন্ধু কলেজ মাঠে মঙ্গলবার থেকে গরুর হাট চালু করা হয়েছে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জুলহাস মৃধার নেতৃত্বে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজস করে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই এ হাট স্থাপন করা হয়েছে। হাটের পূর্ব প্রস্তুতির জন্য সোমবার থেকেই কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। হাটের ইজারা নিয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি কুদ্দুস সরদার।
কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জয়, রাজীব ও শিমুল বলেন, কলেজ মাঠে গরুর হাট বসানোয় মাঠটি পুরো নোংরা হয়ে যাচ্ছে। হাটের জন্য আমাদের কলেজও আগেভাগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ করেছি কিন্তু কেউ শোনেনি।
বিকেনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মাদবর বলেন, ‘কলেজ মাঠে গরুর হাট বসিয়ে কলেজের পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। হাটের অনুমতি আছে কিনা বা কোন নিয়মে কলেজ মাঠে হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে আমার জানা নেই।’
হাটের ইজারাদার কুদ্দুস সরদার বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই কলেজ মাঠে গরুর হাট স্থাপন করা হয়েছে। বিকেনগর বঙ্গবন্ধু ডিগ্রী কলেজ সংলগ্ন পুরান হাটের নামে অনুমতি নেওয়া হয়েছে।’
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জুলহাস মৃধা বলেন, ‘কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেই গরুর হাট বসানো হয়েছে। হাট থেকে যা লাভ হবে তার একটি অংশ কলেজ কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হবে।’
বিকেনগর বঙ্গবন্ধু কলেজের অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, ‘গরুর হাট হিসেবে কলেজ মাঠ ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে কেউ আবেদন করেনি। কিভাবে গরুর হাট বসানো হয়েছে আমি জানি না।’
তাহলে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম কেন তিনদিন আগেই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সংরক্ষিত ছুটির আওতায় এ ছুটি দেওয়া হয়েছে।’
জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বলেন, ‘কলেজের মাঠে গরুর হাট বসানোর কোনও সুযোগ নেই। প্রশাসন থেকে এ ধরনের কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি। জাজিরা উপজেলায় ১৩টি গরুর হাটের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিকেনগর বঙ্গবন্ধু কলেজ মাঠ নেই।’
আরও পড়ুন:
অ্যাটাকে যেতে চায় নারী জঙ্গিরাও
/বিটি/