এছাড়া তিনি জানান, সরকারি কোনও পদে থেকে কোনও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে থাকার বিধান না থাকলেও বিধি লঙ্ঘন করে একটি সরকারি স্কুলের শিক্ষক জোড়পূর্বক সভাপতি হিসেবে আছেন। এ কারণে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্ন ঘটছে।
এদিকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের অভিযোগ ওই মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।
বিদ্যালয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও উপজেলা ওই অফিসারের বিদ্যালয় তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৩ সালে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার রাজিবপুর এলাকায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা ১১ জন এবং শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৫০০ জন।
বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য ছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ১৪ই জুন সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে প্রধান শিক্ষক পদে পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমানকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু ওই নিয়োগের পরপরই উক্ত নিয়োগে আদালত থেকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। নিষেধাজ্ঞাটি বর্তমান সময় পর্যন্ত বলবৎ রয়েছে বলেও উল্ল্যেখ করা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে। তবে প্রধান শিক্ষক হিসেবে মিজানুর রহমান বিদ্যালয়টিতে কর্মরত থাকলেও তিনি মাসিক বেতন তুলছেন সহকারী শিক্ষক হিসেবে। কিন্তু ওই বিষয়টি সম্পূর্ণ নিয়মবিরোধী।
এছাড়া সরকারি ছুটির সময়ে চলতি বছরে ওই বিদ্যালয়টিতে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কোনও কারণে নির্বাচনের ওই বিষয়টি সর্ম্পকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বা বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের জানানো হয়নি বলেও উল্লেখ্য করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।
যদিও ম্যানেজিং কমিটির ওই নির্বাচনটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে জানান বিদ্যালয়টির সাবেক অভিভাবক সদস্য মাসুদুর রহমান।
এছাড়াও সরকারি নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে এসএসসি ও জেএসসি পরিক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের নির্দেশেই প্রধান শিক্ষক ওই সমস্ত কাজগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানান একাধিক অভিভাবকরা।
তবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও মানিকগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, সম্পূর্ণ নিয়ম শৃঙ্খলা মেনেই প্রধান শিক্ষক হিসেবে মিজানুর রহমানের নিয়োগ হয়েছে। তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে তাকে সহকারি শিক্ষকের বেতন তুলতে হচ্ছে। এছাড়া ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে বিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালীন সময়ে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়।
আরও পড়ুন: বেঁচে থাকার লড়াই সুমাইয়ার
/এআর/