গাজীপুরের নারী হত্যা ও লাশ গুমের মামলায় গ্রেফতার ৪


গ্রেফতারগাজীপুরে এক নারীকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত চার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ। 
গ্রেফতারকৃতরা হলো তৈয়বুর রহমান (৪০), আব্দুস সামাদ (৪০),  রবিউল ইসলাম (২৫), শাহীন কবির (৪৫) ও উজ্জ্বল সরকার (৩২)।
বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা এবং আলাদা স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে জানিয়েছে শ্রীপুর থানা পুলিশ।
গাজীপুরের শ্রীপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ফরিদ জানান, প্রথমে রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অন্যদের গ্রেফতার করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২৩ আগস্ট মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার প্রহ্লাদপুর খালিয়াটিপাড়ার ফলজ আকাশি বনের পাশে স্যুটকেসের ভেতর থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম রোকসানা আক্তার নিপা (২৯)। সে নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার বাহিরচাপড়া রাজুরবাজার এলাকার মৃত আব্দুর রউফের দ্বিতীয় সন্তান। তিনি সপরিবারে ঢাকা উত্তরার দক্ষিণ খান প্রেমবাগান এলাকায় বসবাস করতেন।
এ ঘটনায় নারীর একমাত্র ভাই শরিফুল ইসলাম বাপ্পি বাদী হয়ে ২৪ আগস্ট শ্রীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরস্পর যোগসাজশে হত্যা করে লাশ গুম করার অপরাধে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের এতে অভিযুক্ত করা হয়।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার বাহিরচাপড়া রাজুরবাজার এলাকার মো. মাসুদের সাথে রোকসানা আক্তার নিপার বিয়ে হয়। দ্রিমিত নামে তাদের ১২ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। আনুমানিক এক বছর আগে তাদের মধ্যে বিয়েবিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকে রোকসানা তার ভাই মো. শরিফুল ইসলাম বাপ্পির বাসায় থেকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।

২১ আগস্ট বিকেল আনুমানিক তিনটার দিকে রোকসানা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হন। ওই রাতে বাসায় না ফেরায় তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হয়। কিন্তু ফোন রিসিভ হয়নি। পরদিন ২২ আগস্ট তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি নিখোঁজ হন।

নিখোঁজের পর ২৩ আগস্ট মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার প্রহলাদপুর খালিয়াটিপাড়ার আকাশি বনের পাশে স্যুটকেসের ভেতর নিপার লাশ পাওয়া যায়। স্যুটকেসের ভেতর একটি ভেনিটি ব্যাগে গ্রামীন ফোনের সিমসহ একটি মডেম ও গ্রেফতারকৃত মো. রবিউল আউয়ালের ছবিযুক্ত একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড পাওয়া যায়।

লাশ ময়না তদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানেই তার স্বজনেরা লাশটি শনাক্ত করেন।

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক প্রণয় দাস বলেন, মৃতদেহটি অর্ধগলিত ছিল। তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে ধর্ষণের কোনও আলামত পাওয়া যায়নি।

/এইচকে/

পড়ুন: রাস্তায় কোনও চাঁদাবাজি হবে না: ডিআইজি