স্বজনের ফিরে আসার অপেক্ষা

নিখোঁজ স্বজনের ছবি হাতে এসেছেন অনেকে

অঙ্গার হয়েছেন অনেকেই। আগুনে পুড়ে বেশিরভাগেরই চেহারাসহ শারীরিক আকার পরিবর্তন হয়ে গেছে। কে কার স্বজন চেনা যাচ্ছে না। তাই শনিবার সকাল থেকেই টাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড নামের প্যাকেজিং কারখানার সামনে অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনরা। কেউ ছবি হাতে আর কেউ শুন্য হাতে প্রিয় স্বজনের ফিরে আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলেন।

টাম্পাকো কারখানার সামনে অপেক্ষায় থাকা স্বজনরা জানান, কেউ রাতে ও কেউ আগুন লাগার ঠিক পূর্ব মুহুর্তে কারখানায় গেছেন। আগুন লাগার পর ফেরেননি অনেকেই। কেউ লাশ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালের মর্গে গেলেও অনেকেরই খোঁজ মিলছে না। এমন অন্তত অর্ধশত শ্রমিক কর্মচারীর স্বজনরা টাম্পাকোর আশে-পাশে ও হাসপাতালে ছুটছেন স্বজনের খোঁজে। কোথাও মিলছেনা দেখা।

ছোট ভাইয়ের ছবি হাতে নিয়ে অপেক্ষায় আছেন বড় ভাই রিয়াদ। ভাইয়ের নাম মুরাদ হোসেন (১৯)। টাম্পাকোয় কাজ করেন অপারেটরের সহকারী হিসেবে। বাড়ি নোয়াখালী।  রিয়াদ বলেন, ‘শুক্রবার দিবাগত রাত ১০টায় কাজে যায় মুরাদ। সকালে বাসায় ফেরার কথা। একদিন পরই দুই ভাই একসঙ্গে দেশের বাড়িতে যাবেন। কিন্তু খোঁজ মিলছে না মুরাদের। ’

রাজেশ বাবু কারখানায় কাজ করতেন ক্লিনার হিসেবে। তার ভাই সজিব বাবু বলেন, ‘আগুন লাগার ঠিক কয়েক মিনিট আগে কারখানায় যান রাজেশ। বাসায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী। তিনি ১০ হাজার টাকা বেতন পেতেন। পুরো পরিবার তার ওপর নির্ভরশীল। এখন কী হবে তার পরিবারের?’

নিখোঁজ শ্রমিকদের আরেকজন হচ্ছেন কিশোরগঞ্জের রফিকুল ইসলাম। তার ভাই মজিবর জানান, রফিকুল ইসলাম অপারেটরদের সহকারী হিসেবে মাত্র তিনমাস আগে কাজে যোগ দিয়েছেন। মাগুরার আজিমের ভাই রহিম জানান, বিভিন্ন হাসপাতালে ভাইকে খুঁজছেন। কিন্তু কোথাও খুজে পাচ্ছেন না।

শনিবার ভোরে টাম্পাকো কারখানায় আগুন লাগে। এতে আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন এ পর্যন্ত ২৪ জন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/জেইউ/এইচকে/