বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহদেব চন্দ্র বাড়ৈ জানান, ‘নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী নিতুকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনায় আমরা অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। নিতু অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল। সে স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ হিন্দু অধ্যুষিত নবগ্রাম ইউনিয়নের যেকোনও পূজায় নাচ-গান করে মাতিয়ে রাখতো। অথচ তাকে ছুরির আঘাতে প্রাণ দিতে হয়েছে।’
নবম শ্রেণির ছাত্রী তিথি রাণী ও রিতা বাড়ৈর জানান, আমরা মানববন্ধন করেছি। বিচার চাই। সকালে স্কুলে এসে শ্রেণি কক্ষে বসে কেউই তেমন মানসিকভাবে স্বাভাবিক হতে পারিনি।
অন্যদিকে, সোমবার সকালে মাদারীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক কামাল উদ্দিন বিশ্বাস ও জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন নিতুর পরিবারকে ২০ হাজার টাকা প্রদান করেন।
রবিবার সকাল ৯টায় নিতু মণ্ডল স্কুলে যাওয়ার সময় প্রতিবেশী কলেজ ছাত্র নিতু মণ্ডলকে হত্যা করে। পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী তাকে আটকের পর মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। বর্তমানে ওই কলেজছাত্র মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নবগ্রাম ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নির্মল মণ্ডলের মেয়ে নিতু মণ্ডলের সঙ্গে পাশের বাড়ির মিলন মণ্ডলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মিলন মণ্ডল কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজের মার্কেটিং বিষয়ে বিএ (অনার্স) তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। এ সম্পর্কের জের ধরে রবিবার সকালে নিতু স্কুলে যাওয়ার পথে মিলন ধারালো ছুরি দিয়ে নিতুকে গলায় ও পেটে এলোপাথারি আঘাত করে হত্যা করে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলন নিতু হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে ডাসার থানা পুলিশ। মিলনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিতুর বাড়ির পাশের একটি বাগান থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
/এমডিপি/