টাম্পাকোয় নিখোঁজ ৯ জনের পরিবার সিআইডিতে

টাম্পাকো কারখানায় আগুন (ফাইল ছবি)গাজীপুরের টঙ্গীতে নিখোঁজ ৯ জনের পরিবারের সদস্যরা লাশের সন্ধানে এবার ঢাকার সিআইডিতে (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) গেছেন। বুধবার তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করার কথা রয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় তারা ঢাকার মালিবাগে পুলিশের সিআইডি বিভাগে গেছেন।

মাগুরা জেলার ছনপুর গ্রামের নিখোঁজ আজিম উদ্দিনের (৩৬) স্ত্রী পারভীন আক্তার বলেন, ‘১২ দিনেও স্বামীর খোঁজ পাইনি। এখন ডিএনএ টেস্ট করে স্বামীর খোঁজ নিতে পুলিশের সিআইডি অফিসে এসেছি।’

টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার উপুলকি গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে নিখোঁজ জহিরুল ইসলামে (৩৭) ভগ্নিপতি আলাউদ্দিন বলেন, ‘অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছি। কোথাও জহিরুলের খোঁজ পাইনি। উদ্ধার মৃতদেহগুলোর এমন অবস্থা হয়েছে যে, তাদের শনাক্ত করা কঠিন। অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষাই আমাদের ভরসা হলো।’

নিখোঁজ মুরাদের বাবা তাহের আলী বলেন, ‘মৃতদেহ না পাই, অন্তত ছেলের একটা স্মৃতিচিহ্নের জন্য এখন ডিএনএ টেস্ট করতে ঢাকা সিআইডি কার্যালয়ে এসেছি।  উদ্ধার লাশগুলো চেনার উপায় নেই। সব গলে গেছে।’

টঙ্গী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমন ভক্ত জানান, ওই ঘটনায় ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯ জনের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। বাকি দুইজনের পরিবারের সদস্যরা আসতে পারেননি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। তারা তাদের গ্রামের বাড়িতে রয়েছেন।

আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু

টাম্পাকো ফয়েল কারখানার ঘটনায় আহত আরও এক শ্রমিক মঙ্গলবার বিকালে ঢাকার ধানমণ্ডির জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহতের নাম হোসেন আহমেদ ওরফে রাসেল (২৬)। তিনি সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার ঘাঘুয়া গ্রামের হাসান আলীর ছেলে। তিনি ওই কারখানার একজন শ্রমিক ছিলেন বলে জানিয়েছেন টঙ্গী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমন ভক্ত।

তিনি জানান, দুর্ঘটনার দিন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় রাসেলকে জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেদিন থেকেই তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। মৃত্যুর আগ  পর্যন্ত তার জ্ঞান ফেরেনি। তার শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। স্বজনরা তার মরদেহ নিয়ে গেছে। এ সময় তার বাবার কাছে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এর আগে চিকিৎসার জন্য তাকে আরও ১০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনার তদন্ত

তিতাস গ্যাসের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী রানা আকবর হায়দারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিন সদস্য বিশিষ্ট আমাদের তদন্ত কমিটি কাজ করছে। উদ্ধারকাজ যেহেতু এখনও চলমান সেহেতু এর ভেতরে প্রয়োজনীয় জায়গায় প্রবেশ সম্ভব হচ্ছে না। ইতোমধ্যে অনেক তথ্যই সংগ্রহ করা হয়েছে। সংশিষ্ট আরও  অনেকের সঙ্গে কথা বলার বাকি রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তদন্ত যেহেতু শেষ হয়নি তাই এ মুহূর্তে ঘটনার ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা যথাসময়েই তদন্ত শেষ করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন উপস্থাপন করব।’

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এস এম আলম জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল সে কমিটির কাজ এগিয়ে চলছে। তবে এ কমিটিকে সমন্বয় করে আন্তঃমন্ত্রণালয় থেকে এক্সপার্ট লোক দিয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে এক্সপার্ট লোক সম্পৃক্ত করে ওই কমিটি রান করাবে। এ সপ্তাহের মধ্যেই ওই কমিটি তদন্তের বাকি কাজ সম্পাদন শুরু করবেন।

তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে টাম্পাকো দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৫ এ। নিখোঁজ রয়েছেন ১১ জন। আহত হয়েছেন ৩৩ জন।

প্রসঙ্গত, ১০ সেপ্টেম্বর ভোরে টঙ্গীর বিসিক শিল্প নগরীতে বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় টাম্পাকো ফয়েলস কারখানা বিধ্বস্ত হয় এবং ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঘটনা তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, গাজীপুর জেলা প্রশাসন, শিল্প মন্ত্রণালয়, ফায়ার সার্ভিস ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মোট পাঁচটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। টাম্পাকো মালিকের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন আইনে দুটি মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ছেলের দেওয়া আগুনে অবশেষে মারা গেলেন বাবা

/বিটি/