হতদরিদ্রদের চালে মাপে কম দিচ্ছেন আ. লীগ নেতা!

গোপালগঞ্জগোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে হতদরিদ্রদের স্বল্পমূল্যের  চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ৩০ কেজি চালের কথা বলে সেখানে দেওয়া হচ্ছে ২৫ কেজি। তবে আওয়ামী লীগের ওই নেতা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট ইউনিয়নে স্বল্পমূল্যের চাল বিক্রির ডিলারশিপ পেয়েছেন মো. সেলিম রেজা। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ ‘স্লোগানে খাদ্য অধিদপ্তর সেপ্টেম্বর মাস থেকে দরিদ্রদের জন্য স্বল্প মূল্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেন। এ কার্যক্রমের আওতায় একজন হতদরিদ্র মানুষ মাসে ১০ টাকা দরে ৩০ কেজি চাল কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। 

রাজপাট ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য মো. মামুন মোল্লা জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর চাল বিক্রি করেন ডিলার মো. সেলিম রেজা। এ সময় আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। তিনি হতদরিদ্রদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চালের দাম ৩০০ টাকা নেন। কিন্তু ৩০ কেজির জায়গায় চাল দেন ২৫ থেকে ২৬ কেজি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘ওই ডিলার তার নিজের বাড়িতে চাল রেখে বাটখারার পরিবর্তে বালতিতে মেপে চাল বিক্রি করেছেন। এভাবে হতদরিদ্রদের ঠকিয়ে তিনি মাথাপিছু ৪/৫ কেজি চাল আত্মসাৎ করেছেন।’

রাজপাট গ্রামের মান্নান মোল্লা বলেন, ‘আমি ৩০০ টাকা দিয়ে ৩০ কেজি চাল কিনেছি। বাড়ি গিয়ে ওজন দিয়ে দেখি সাড়ে ২২ কেজি চাল হয়েছে। আমার মতো আরও অনেককেই ওজনে কম দেওয়া হয়েছে।’

সেলিম রেজা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এলাকার কিছু লোক জামাত-বিএনপি করে। তারা আমার বিরুদ্ধে এ ধরণের মিথ্যা অভিযোগ করছে। আমি ওজনে কম দেইনি।’

কাশিয়ানী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. কামরুল ইসলাম জানান, ওজনে কম দেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করেছে। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাই। চাল মেপে ৩০ কেজির জায়গায় ২৮ কেজি, ২৯ কেজি পেয়েছি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

/এআরএল/

আরও পড়ুন: 

মাশরাফির নেতৃত্বে বদলে যাওয়ার দুই বছর