আইনজীবীকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়ায় তুলকালাম

নারায়ণগঞ্জনারায়ণগঞ্জের একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোমবার দুপুরে একটি মামলায় আসামির জামিন আবেদন নিয়ে বিচারকের সঙ্গে তুমুল বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন আওয়ামী লীগ পন্থী একজন আইনজীবী। এ সময়ে আদালতের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে আইনজীবীকে গ্রেফতারের আদেশ দেওয়া নিয়ে তুমুল বাক-বিতণ্ডা হয়। পরে আইনজীবী সমিতির নেতারা গিয়ে ওই আইনজীবীকে মীমাংসার মাধ্যমে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।
ওই আইনজীবীর নাম আল মামুন ভূইয়া। তিনি জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান পরিষদের লাইব্রেরি বিষয়ক সম্পাদক।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহানের আদালতে একটি মামলায় আসামির জামিন আবেদন করেন আল মামুন ভূইয়াসহ বেশকজন আইনজীবী। আদালত ওই মামলায় আসামির জামিন আবেদন না মঞ্জুর করেন। এ নিয়ে অ্যাডভোকেট আল মামুন ভূইয়া আদালতের এজলাসে বিচারকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু করে দেন। ওই ঘটনায় তাৎক্ষনিক আদালত অ্যাডভোকেট আল মামুন ভূইয়াকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশকে আদেশ দেন আদালত।

পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েলসহ আইনজীবী নেতারা গিয়ে বিচারকের সঙ্গে কথা বলেন। উভয়ের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। এই মর্মে আইনজীবীকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল বলেন, ‘মামলায় জামিন না পেলে আইনজীবীরা কষ্ট পেলে যা হয়, এই আর কি। বিচারক আইনজীবীর মধ্যে কথা কাটাকাটি মাত্র। উত্তেজনাবশত এটা হয়ে গেছে। দুজনের কথায় দুজন বুঝতে ভুল করায় উত্তেজনা সৃষ্টি থেকে এটা বলা। পরে বিষয়টি ঠিক হয়ে গেছে।’

অ্যাডভোকেট আল মামুন ভূইয়া বলেন, ‘একটি মামলার জামিন আবেদনের বিষয়ে বিচারকের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে মাত্র। এছাড়া আর কোনও কিছু হয়নি। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’

নারায়ণগঞ্জ আদালতের পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, যা ঘটেছে তার তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা করা হয়। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেটাই আমাদের কাম্য।

/এনএস/