গত ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর দুপুর পর্যন্ত ৫৬ টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২৩৫টি অভিযান পরিচালিত হয় মুন্সীগঞ্জে। এ সব অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন অমান্য করে ইলিশ মাছ ধরার অপরাধে ১৬৫টি মামলা করে মোট ৫৯ জন জেলেকে সর্বনিম্ন সাত দিন থেকে সর্বোচ্চ ৩০ দিন কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি তাদের জরিমানা করা হয় মোট ৫ লাখ ৫৫ হাজার দুইশত টাকা।
এদিকে অবৈধভাবে ইলিশ শিকারের সময় জেলেদের কাছ থেকে ১৬ লাখ ৬ হাজার ৯৯০ মিটার জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। আটক করা হয় প্রায় ১ টন ৫৭ কেজি ইলিশ।
এ সব তথ্য জানিয়ে জেলা খামার ব্যবস্থাপক শাহজাহান আনিসুর রহমান বলেন, ‘জেলার মোট ৯ হাজার ৮১৩ জন নিবন্ধিত মৎসজীবীকে অবৈধভাবে মা ইলিশ না ধরার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সচেতন করা হয়। এর অংশ হিশেবে গত ২২ দিনে মাছ অবতরণ কেন্দ্রে মোট ৭২ বার, মাছ ঘাটে ১৮৩ বার, আড়তে ৪২৬ বার ও স্থানীয় বাজারগুলোতে হাজারেরও বেশি বার পরিদর্শন করা হয়। এর পরেও যারা মাছ ধরেছে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল জরিমানাসহ বিভিন্ন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
এদিকে, নিষেধাজ্ঞার সময়ে জনপ্রতি ২০ কেজি করে সরকারি বরাদ্দের চাল স্থানীয় কোনও জেলের কপালেই জোটেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলে সামাদ মিয়া বলেন, ‘চাল বরাদ্দ দেয় নাই। মাছও ধরতে দেয় নাই। আমাগো সংসার কেমনে চলে?’
এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অলিউর রহমান জানান, প্রায় ১০ হাজার নিবন্ধিত মৎসজীবীর মধ্যে জাটকা মাছ না ধরার জন্য জেলার ২ হাজার ৩৩৫ জন জেলে ভিজিএফ এর মাধ্যমে বরাদ্ধকৃত চাল পেয়ে থাকেন। তবে, মা ইলিশ না ধরার বিপরীতে সরকারি বরাদ্দের কোনও চাল মুন্সীগঞ্জের কোনও জেলের জন্য বরাদ্ধ দেওয়া হয়নি। যদিও আমাদের দিক থেকে চেষ্টার কোনও কমতি ছিল না। কিন্তু মুন্সীগঞ্জের জেলেদের জন্য কোনও চাল বরাদ্ধ পাওয়া যায়নি।’
তিনি বলেন, ‘হয়তো মন্ত্রণালয় থেকে কোনও প্রায়োরিটি বেসিসে বিভিন্ন জেলায় চালের বরাদ্ধ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তাই অন্যান্য আরও কয়েকটি জেলার সঙ্গ মুন্সীগঞ্জের জেলেরাও কোনও চাল বরাদ্দ পায়নি।’
আরও পড়ুন-
আহমদ শফীর সাক্ষাৎ চান ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ
প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আইনের আওতায় এসেছেন: দুদক চেয়ারম্যান
/এফএস/