কিশোরগঞ্জে ডায়রিয়ার প্রকোপ, এক সপ্তাহে ৩০০ জন হাসপাতালে

2

কিশোরগঞ্জ শহরের বত্রিশ এলাকায় ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। এক সপ্তাহে ওই  এলাকার কমপক্ষে ৩০০ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ চারজনকে ঢাকা ও ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ২৭ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যালে মারা গেছেন একজন। 

হঠাৎ করে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট  কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। আইসেলোশন ওয়ার্ডের সিনিয়র নার্স মিলন খাতুন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়ার রোগীদের চাপ থাকলেও তাদের চিকিৎসার কোনও সমস্যা হচ্ছে না। স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ রোগীদের দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের পক্ষ থেকেও  চিকিৎসা নিয়ে কোনও অভিযোগ করেনি কেউ।

কেন একটি এলাকায় ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ছে তা খুঁজে বের করতে রাজধানীর কলেরা হাসপাতালের একটি দল কিশোরগঞ্জ যাবে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. আবদুল গনি। তিনি বলেন, তারা এলাকার পানি ও মল পরীক্ষা করে দেখবে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ঘরে ঘরে গিয়ে খাবার স্যালাইন সরবরাহসহ লোকজনকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাইকিং করে সচেতন করা হচ্ছে লোকজনকে।

এলাকাবাসী মনে করছে, পৌরসভার সাপ্লাইয়ের পানি থেকে এ সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। কারণ এলাকার বেশিরভাগ লোক এ পানি পান করে থাকে। কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রও জানিয়েছে পানি থেকেই এ সমস্যাটি হয়েছে বলে তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।

 1

তবে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ বলছেন, পৌরসভা পানি থেকে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়লে তা কেবল একটি এলাকায় না, সারা শহরে ছড়িয়ে পড়ত। তবু পৌরসভার পক্ষ থেকে মেডিক্যাল টিম গঠন করে এলাকায় পাঠানো হয়েছে। পানির লাইনগুলো পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ড্রেনগুলোয় ব্লিচিং পাউডার দেওয়া হবে।

শুক্রবার দুপুরে হাসপাতলের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় সেখানে তিল ধারণের জায়গা নেই। ছোট এ ওয়ার্ডটিতে হঠাৎ করে এত রোগী ভর্তি করানোর ফলে তাদের চিকিৎসাসেবা সমস্যা হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বত্রিশ এলাকার বাসিন্দা রিপন দাস। তিনি বলেন, তারা পৌরসভার সাপ্লাইয়ের পানি পান না করলেও এ পানি দিয়ে থালা বাসন ধোয়া এবং গোসলের কাজ করছেন।

4

আরও কয়েকজন রোগী জানান, কেন এমন হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছেন না তারা।

ডায়রিয়া ওয়ার্ডের কর্তব্যরত একজন নার্স বলেন, স্বভাবিক সময়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন ডায়রিয়া রোগীকে ভর্তি করা হয় এ ওয়ার্ডে। কিছুদিন ধরে গড়ে ৩৫-৪০ রোগী ভর্তি করা হচ্ছে।

/এসটি/