বাড়িতে পাকা ভবন, তবুও পেয়েছে ১০ টাকার চালের কার্ড

গোপালগঞ্জগোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় ‘খাদ্য বান্ধব’ কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের মাঝে চাল বিতরণের তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। তালিকায় দরিদ্রদের বাদ দিয়ে রাখা হয়েছে বিত্তশালীদের। বেথুড়ী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের নড়াইল গ্রামের কুয়েত প্রবাসী আশরাফ আলীর স্ত্রী ঝর্ণা বেগমকে দেওয়া হয়েছে হতদরিদ্রের কার্ড। অথচ তার একমাত্র ছেলে ঢাকায় চাকরি করে এবং বাড়িতে পাকা ভবন রয়েছে।
এদিকে তালিকা থেকে দরিদ্র পরিবারের লোকজনরা সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকায় তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী হতদরিদ্র পরিবার প্রধানরা ১০ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি চাল পাবেন। কিন্তু এ নিয়ম অনুসরণ না করায় অনেক সচ্ছল পরিবার এ চাল পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার বেথুড়ী ইউনিয়নের ৪ নং নড়াইল ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার দীপক রায়ের যৌথ পরিবারের তিন সদস্যের নামেই হতদরিদ্রের কার্ড হয়েছে। ওই ইউপি মেম্বারের বড় ভাইয়ের স্ত্রী কামনা রায়, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ববিতা রায় ও অবিবাহিত ছোট ভাই কুমারেশ রায় এ কার্ড পেয়ে চাল উত্তোলন করছেন।
এছাড়া ওই ইউপি মেম্বার বাবর আলী, নাজমূল ও যতন বিশ্বাস নামে অন্য ওয়ার্ডের তিন ব্যক্তির নাম দিয়ে চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্য ওয়ার্ডের লোকেরা কিভাবে ওই ওয়ার্ডের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হলো জানতে চাইলে ইউপি মেম্বার দীপক রায় বলেন, ‘ওই ব্যক্তিদের নাম চালের ডিলার নাছির মিয়া দিতে বলেছেন।’

ডিলার নাছির মিয়া বলেন, ‘তালিকা করার দায়িত্ব ছিল ইউপি মেম্বারের। তিনি চাল আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই এ তালিকা করেছেন। আমি তাকে কোনও অনুরোধ করিনি।’

বেথুড়ী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের নড়াইল গ্রামের ভূমিহীন গোপাল বিশ্বাস এবং হতদরিদ্র নেপাল বিশ্বাস ও রঞ্জন বিশ্বাসসহ অনেকে হতদরিদ্রদের কার্ড পাননি। ওই গ্রামের ১০ বিঘা জমির মালিক অর্থশালী আতোশ আলী শেখ। যিনি বছরে ৩০০ মন ধান বিক্রি করেন। তার নামে হতদরিদ্রদের কার্ড হয়েছে।

নড়াইল গ্রামের কুসুম বেগমের (৪৫) হতদরিদ্রের র্কাড পেয়েছেন। তার স্বামী ব্যবসায়ী। তিনি অঢেল সম্পত্তির মালিক। ছেলে সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন।

জোতকুরা গ্রামের বেবী বেগমের নামে ভিজিডির কার্ড রয়েছে। তারপরও তার স্বামী সাহিদুল ইসলাম খান টুলুর নামে হতদরিদ্রের কার্ড দেওয়া হয়েছে। একই গ্রামের মেরী বেগমের নামে ভিজিডির কার্ড থাকা সত্ত্বেও বিধি ভঙ্গ করে স্বামী হাফিজ খানের নামে হতদরিদ্রের কার্ড দেওয়া হয়েছে।
কাশিয়ানী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এ রকম অসংখ্য বিত্তশালী পরিবারে দেওয়া হয়েছে হত দরিদ্রের কার্ড।

বেথুড়ী ইউনিয়নের রামদিয়া গ্রামে ওয়াপদার জায়গায় বসবাসরত বিল্লাল হোসেন জানান, ‘তিনি একটি কার্ডের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন, কিন্তু আজও কপালে তার কার্ড জোটেনি।

এমন বিল্লালের মতো শত শত দরিদ্র মানুষ ১০টাকা দরের চালের কার্ডের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

কাশিয়ানী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. কামরুল হাসান বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, তালিকা যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

/এআর/