দেশে চার-পাঁচ লাখ আন-ডকুমেন্টেড (অবৈধ অনুপ্রবেশকারী) রোহিঙ্গা রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি কাজী রিয়াজুল হক। বুধবার দুপুর ১২টায় গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য দেন।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনে দেশের ভূমিকা বিষয়ে কাজী রিয়াজুল হক বলেন, ‘আগে দেশের মানুষের মঙ্গল দেখতে হবে, এরপর বিশ্বমানবতা। দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হলে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে। আমাকে আগে দেশের মানবাধিকার দেখতে হবে। দেশ এত মানুষের ভার নিতে পারে না। এছাড়াও চরমপন্থা, সন্ত্রাসবাদ, অথবা ইয়াবা ঢুকে গেলে দেশের মানুষের অমঙ্গল হবে।’
গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আরাকান থেকে আসা দু’জন রোহিঙ্গা মেয়ে রয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘তাদের বয়স ১৮ অতিক্রম করেছে। তাদেরকে মিয়ানমারে পাঠানো যাচ্ছে না। তাদেরকে নিতে মিয়ানমারের বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।’
গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা দুই রোহিঙ্গা মেয়ের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কথা বলবেন বলে তিনি জানান।
রোহিঙ্গাদের ওপর সাম্প্রতিক নির্যাতন ইস্যুতে মিয়ানমারের বর্তমান স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি প্রসঙ্গে কাজী রিয়াজুল হক মন্তব্য করেন, ‘আমাদের অনেক আশা ছিল তাকে নিয়ে। তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কারও পেয়েছেন। অথচ তিনি আসার পরও মানুষের ওপর নির্যাতন হচ্ছে। শিশুদের চোখের সামনে তাদের মা বাবা ভাই বোনদের মেরে ফেলা হচ্ছে। তারা পালিয়ে বাঁচতে চেষ্টা করছে।’
অধিক উন্নত দেশ ছাড়া মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনের ব্যাপারে কেউ কথা বলছে না বলেও মনে করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এই সভাপতি।
/এইচকে/