নারায়ণগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানকে মারধর, সড়ক অবরোধ

IMG_0185নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় সরকার দলীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানকে মারধরের অভিযোগে তার সমর্থকেরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছে। মারধরের শিকার আসাদুজ্জামান ফতুল্লার এনায়েত নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি। তিনি গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

সোমবার দুপুরে অবরোধের কারণে প্রায় ১ ঘণ্টা ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। তবে অভিযুক্তদের দাবি তাদের ওপর হামলার কারণেই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।

আসাদুজ্জামান জানান,‘ফতুল্লার পঞ্চবটি থেকে ধর্মগঞ্জ পর্যন্ত সড়কের সংস্কার কাজ চলছে। সংস্কার কাজের অংশ হিসাবে পঞ্চবটি মোড়ে গফুর ম্যানশন নামে একটি বহুতল ভবনের সামনে ড্রেন নির্মাণ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে মালিক পক্ষের লোকজন বাধা দিচ্ছিল। সোমবার দুপুর আড়াইটায় তিনি এনায়েত নগর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে মোটরসাইকেলে করে পঞ্চবটি আসার সময় ওই ভবনের সামনে কয়েকজন ব্যক্তি তার গতিরোধ করেন। তিনি আরও বলেন,  ‘গতিরোধ করা ব্যক্তিদের মধ্যে ভবন মালিক মাসুদুর রহমান ও তার ভাই পিপল হোসেন ছিল। তারা আমাকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে বেদম মারধর ও কিলঘুষি দেয়। পরবর্তীতে আমি থানায় যাই।’

IMG_0237এদিকে চেয়ারম্যানকে মারধরের খবরে আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা গফুর ম্যানশনে বাইরে থেকে ইটপাটকেল ছুড়ে ভবনে ভাঙচুর করে। এরপর তারা ফতুল্লা মডেল থানার সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করে। এক পর্যায়ে বিকাল সোয়া তিনটায় শতাধিক সমর্থক পঞ্চবটি এলাকায় ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে। সড়কে টায়ার ও গাছের গুড়ি ফেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। বন্ধ হয়ে যায় সড়কের দুই পাশের যান চলাচল।

ফতুল্লা মডেল থানার সহকারী পুলিশ সুপার শরফুদ্দিন জানান, ‘ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসে বিকাল সোয়া ৪টায় অবরোধকারীরা রাস্তা থেকে সরে যায়। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’

ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী জানান, ‘আমরা পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে জড়িতদের গ্রেফতারে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছি। অন্যথায় আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা দিবো।’

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত পিপল হোসেন মোবাইল ফোনে জানান,‘আমাদের ভবনের জায়গা দখল করে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছিল। আমরা বাধা দেওয়ায় প্রথমে আমাদের মারধর করা হয়। তখন চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমাদের বাকবিতণ্ডা হলে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। পরে চেয়ারম্যানের লোকজন ইটপাটকেল ছুড়ে আমাদের ভবন ভাঙচুর করেছে।’

/এমডিপি/