শ্রমিক আইয়ুব হত্যা মামলায় ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড

আইন-আদালতনরসিংদীর বরফ কল শ্রমিক আইয়ুব হত্যা মামলায় ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শাহিন উদ্দিন আদেশ দেন। এছাড়াও লাশ গুমের অপরাধে প্রত্যেকের তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।  

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নরসিংদীর সোহাগ চন্দ্র দাস,সাদ্দাম হোসেন, সমীর চন্দ্র দাস, বিমল, ময়মনসিংহ জেলার সুজন ওরফে বাঘা সুজন ও চাঁদপুর জেলার এরশাদ। আসামিরা সবাই পলাতক।  রায়ে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও করেন আদালত।

নরসিংদী জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি মো. অলি উল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী শহরের বৌয়াকুড়স্থ মোসলেহ উদ্দিন সুপার মার্কেটের একটি বরফ কলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন ময়মনসিংহের সুজন ওরফে বাঘা সুজন। কাজে ফাঁকি দেওয়ায় তার চাকরি চলে গেলে সুজনের কর্মস্থলে নতুন শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ পান শহরের বৌয়াকুড় মহল্লার আইয়ুব। এ নিয়ে আইয়ুবের ওপর ক্ষিপ্ত হয় চাকরিচ্যুত সুজন।

এরই জের ধরে ২০০৮ সালের ২৯ আগস্ট সুজন মোবাইলে ফোন করে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বরফ কল শ্রমিক আইয়ুবকে নিয়ে যান। পরে পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আইয়ুবের সন্ধান পাননি। তিনদিন পর ১ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার ধামেরভাওলা এলাকায় মেঘনা নদীতে আইয়ুবের মাথাবিহীন গলিত মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহ শনাক্তের পর নিহত আইয়ুবের বাবা আ: হেকিম সরকার বাদী হয়ে নরসিংদী সদর থানায় সুজনকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ  ওই রায় দেন।

/বিটি/