নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনেক নাটকীয়তার পর ধানের শীষের মনোনয়ন পান আইনজীবী নেতা সাখাওয়াত হোসেন খান। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, তিনবারের সাবেক এমপি আবুল কালাম ও সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য বলেছিলেন খোদ দলীয় চেয়ারপারসন। কিন্তু তিনজনের কেউ নির্বাচনে দাঁড়াতে রাজি হননি। পরে চেয়ারপারসন এ তিনজন নেতাকে ডেকে সাখাওয়াতের পক্ষে কাজ করার কড়া নির্দেশনা দেন। তিনজনের মধ্যে তৈমূরকে নারায়ণগঞ্জ শহর, গিয়াসউদ্দিনকে সিদ্ধিরগঞ্জ ও আবুল কালামকে বন্দরের দায়িত্ব দেন।
এর মধ্যে তৈমূরের ছোট ভাই মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক ও দুইবারের কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ শহরের ১৩নং ওয়ার্ড, আবুল কালামের ছেলে মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা ২৩নং ওয়ার্ড ও গিয়াসউদ্দিনের ছেলে গোলাম মোহাম্মদ সাদরিল ৫নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
কেন্দ্রীয় নেতাদের কারণে এতদিন এ তিন নেতাকে সাখাওয়াতের পক্ষে বেশ সক্রিয় দেখা গেলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তিনজনকেই স্ব স্ব ওয়ার্ডে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়।
তৈমূর আলম খন্দকারকে সকাল সোয়া ৮টায় শহরের মাসদাইরে নারায়ণগঞ্জ আদর্শ স্কুলে বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে দেখা যায়। পরে তিনি যান শহরের আমলাপাড়া গার্লস স্কুল কেন্দ্রে। এটাও ১৩ নং ওয়ার্ডে। দুপুরে তৈমূর শহরের শায়েস্তা খান সড়কে বিএনপির মিডিয়া সেলে যান। সেখান থেকে ১টার পর তৈমূরকে আবারও ১৩ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন কেন্দ্রে ঘুরতে দেখা গেছে।
তৈমূর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকাল থেকে আমি আমার দায়িত্বরত এলাকায় কাজ করছি। আমার সব নেতাকর্মী প্রতিটি কেন্দ্রে কাজ করছে। আমি এক বিন্দুও অলসতা দেখাইনি। প্রতি মুহূর্তে ব্যস্ত থেকে সবাইকে তাগিদ দিচ্ছি।’
অন্যদিকে গিয়াসউদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সিদ্ধিরগঞ্জের সবগুলো কেন্দ্রেই বিএনপির নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে কাজ করছে। সব কেন্দ্রে এজেন্ট, পোলিং এজেন্ট, সমর্থকেরা আছে। আমার ছেলে নির্বাচন করলেও দলের প্রার্থীর পক্ষেই আমি সরব ছিলাম, এখনও আছি।’
আবুল কালামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেনি। তবে আবুল কালামের ছেলে আবুল কাউসার আশা জানান, ‘শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চলছে। আমাদের বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বন্দর থেকে শুরু করে শহরের সবগুলো কেন্দ্রে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করছে।’
/এফএস/