ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, যেকোনও সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা

গাজীপুর মহানগরের বাসন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। এতে যেকোনও সময় সেখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। এনিয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।গাজীপুরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান

বাসন এলাকার বাসিন্দা ও গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমএ আউয়াল জানান, ১৯২৯ সালে বাসন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নির্মিত হয়। ৩৫ শতাংশ জমিতে নির্মিত বাসন প্রাইমারি স্কুলের দুটি ভবন রয়েছে। দক্ষিণ পাশের ভবনটি ভালো থাকলেও পশ্চিম পাশের তিনটি কক্ষের একতলা ভবনটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি আরও জানান, স্কুলটির বেহাল দশার কথা উল্লেখ করে প্রধান শিক্ষক জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে একাধিকবার লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে। ভবনটির দেয়ালের বাইরে ও ভেতরের ছাদে অনেকাংশে পলেস্টার উঠে গেছে এবং ফাঁটল দেখা দিয়েছে। তারপরও ওই ভবনে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।গাজীপুরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান ১

এমএ আউয়াল জানান, এ অবস্থায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এই স্কুলে বহুতলা একটি ভবন করার জন্য বরাদ্দ দেয়। কিন্তু স্কুলটির ভবন দুটির সামনে তিন শতাংশেরও কম খোলা জায়গা রয়েছে। ওই জায়গায় নতুন ভবন স্থাপন করা হলে শিক্ষার্থীদের জাতীয় সঙ্গীতের জন্য অ্যাসেম্বলি, পিটি-প্যারেডসহ খেলাধুলা করার কোনও জায়গা থাকবে না। তবে ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবনটি ভেঙে সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করলে এসব সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে।

এ ব্যাপারে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সুপারিশক্রমে স্থানীয় এলজিডিই’র কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক স্কুলটিতে বহুতলা একটি ভবন বরাদ্দ দেয়। এ ভবনটি স্থাপনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি সরানো প্রয়োজন।

নতুন ভবন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান গাজীপুরের এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আমিরুল ইসলাম খান বলেন, নতুন স্থানে নতুন ভবন নির্মাণ করলে প্রাইমারি স্কুলের খোলা জায়গা কমে যাবে এবং পাশের হাইস্কুলের প্রধান ফটক প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে। তবে বিকল্প হিসেবে দক্ষিণ পাশের ভবনটির উপরে আরও একতলা নির্মাণ করা যায়। পশ্চিম পাশের একতলা ভবনের একপাশে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করলে জায়গার অপচয় হবে না।গাজীপুরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান ৪

গাজীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী বদরুল আজম জানান, ওই ভবনটি পরিত্যক্ত (কনডেম) ঘোষণা করতে হলে ঢাকায় প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। এজন্য একটি কমিটি গঠণ করতে হবে। এতে সময় লাগবে। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা আছে এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত। ওই ভবন পরিত্যক্ত করতে দ্রুত কনডেম কমিটির প্রতিবেদন প্রয়োজন। তা না হলে প্রকল্প চলে যাবে।

/এআর/