পুলিশ প্রহরা ছাড়াই স্কুলে গেলেন শ্যামল কান্তি, বললেন ‘আপাতত সমস্যা নাই’

শ্যামল কান্তি ভক্তটানা প্রায় আট মাস ধরে পুলিশ প্রহরায় স্কুলসহ অন্যান্য স্থানে যাতায়াত করেছেন নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি। তবে বুধবার পুলিশ প্রহরা প্রত্যাহারের পর একাই চলাফেরা শুরু করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, আপাতত কোনও সমস্যা দেখছেন না। কয়েকদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এ ব্যাপারে জানাবেন।

এর আগে বুধবার সকাল থেকে শ্যামল কান্তির পুলিশ প্রহরা তুলে নেওয়া হয়। ওই সময়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও দুপুরে পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগের পর আশ্বস্ত হন।

শ্যামল কান্তি বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার আগেই নারায়ণগঞ্জ শহরের নগর খানপুরের মোকরবা সড়কের বাসা থেকে রিকশায় করে সেন্ট্রাল খেয়াঘাটে নৌকা পার হয়ে বন্দরের কল্যান্দীতে স্কুলে যান।

দুপুরে তিনি মুঠোফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘আমি ভালোভাবেই স্কুলে এসেছি। এসএসসি পরীক্ষা চলছে। আপাতত কোনও সমস্যা দেখছি না। কয়েকদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবো। এসপি সাহেব আমাকে আশ্বস্ত করেছেন কিছু হবে না। তাছাড়া ভগবান তো আছেনই।’

গত বছরের ১৩ মে বন্দরে পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ে শ্যামল কান্তি ভক্তকে স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের নেতৃত্বে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে তাকে প্রথমে শহরের খানপুরে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই বছরের (২০১৬) ৯ জুন শ্যামল কান্তিকে কড়া পুলিশ প্রহরায় নারায়ণগঞ্জ নিয়ে আসা হয়। এর পর থেকে শহরের নগর খানপুরে মোকরবা রোডে শ্যামল কান্তির বাসায় পুলিশের দুইজন কনস্টেবল নিয়োজিত করা হয়। প্রতিদিন শহর থেকে নদী পার হয়ে বন্দরে স্কুলে আসা যাওয়ার পথেও নিরাপত্তায় থাকতো পুলিশ সদস্যরা।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফারুক আহমেদ জানান, ‘শ্যামল কান্তির নিরাপত্তার ব্যাপারে উচ্চ আদালতের কোনও নির্দেশনা ছিল না। তবে আমরা তার নিরাপত্তার প্রয়োজন অনুভব করে তাকে পুলিশ দিয়ে নিরাপত্তা দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন তিনি ভালো আছেন। তাই নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’

/এফএস/

আরও পড়ুন- 


এমপি লিটনের বাড়িতে এখন শুধু চারজন