খরচ বাড়ায় হুমকিতে পোল্ট্রি শিল্প

RAJBARI POLTE PIC 9 MARCH 2017

বছর দশেক আগেও পোল্ট্রি শিল্পের জন্য বেশ নামডাক ছিল রাজবাড়ী জেলার। ২০০৭-০৮ সালে বার্ড ফ্লু’র কারণে সর্বস্ব হারিয়ে অনেক খামারিই আজ বেকার। এক সময়ে রাজবাড়ীতে হাজারের বেশি মুরগির খামার থাকলেও এখন তা নেমে এসেছে শ’য়ের কোঠায়। পোল্ট্রি ফিড খাবার ও একদিনের বাচ্চার দাম বেড়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে খামারিরা। ফলে জেলায় পোল্ট্রি শিল্প আজ হুমকিতে।

পোল্ট্রি ফিড, মুরগির ওষুধ, আমদানি করা একদিনের বাচ্চার দাম বৃদ্ধি এবং ডিমের দাম কমে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খামারিরা।

জেলা সদরের আঁখি পোল্ট্রি ফার্মের মালিক আলামিন ব্যাপারী বলেন, ‘রাজবাড়ীর পোল্ট্রি খামারিরা সরকারি কোনও সহযোগিতা পাচ্ছে না। সরকারি প্রাণী সম্পদ অধিদফতর থেকে কোনও ধরনের চিকিৎসা বা পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক খামারি। এছাড়া একদিনের বাচ্চা ও পোল্ট্রি ফিডের দাম অতিরিক্ত হারে বেড়েছে। সেই তুলনায় কমেছে ডিমের দাম। এ রকম অবস্থায় খামার লোকসানে রয়েছে। যে পরিস্থিতি দাড়িয়েছে তাতে কিছুদিন পর হয়তো পোল্ট্রি শিল্পই থাকবে না। এরই মধ্যে খামারে কাজ করা অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। সরকারি ক্ষুদ্র ঋণ পেলে খামারিরা হয়তো বেঁচে থাকতে পারবে।’

রাজবাড়ী জেলা পোল্টি শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রইচ উদ্দিন আহম্মেদ ডিউক জানান, বর্তমানে পোল্ট্রি শিল্পের অবস্থা করুণ। দেশের মানুষের আমিষের ঘাটতি পূরণে পোল্ট্রি শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিভিন্ন সমস্যার কারণে তা ধ্বংসের মুখে এ শিল্প। রাজবাড়ীতে অনেক খামার আজ বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ এ খাতে সরকার কোনও ভতুর্কি দিচ্ছে না। সরকার এ খাতে নজর দিলে এই শিল্প টিকে থাকবে।

পোল্ট্রি খামারের শ্রমিক মোক্তার হোসেন বলেন, ‘খামারে কাজ করে আমরা সংসার চালাই। খামারির লোকসান হওয়ায় বেতন-ভাতা ঠিক মতো পাচ্ছি না। যদি মালিকরা লাভবান হয় তাহলে শ্রমিকেরা বাঁচবে। সরকারের প্রতি আকুল আবেদন পোল্ট্রি খামারিদের বাঁচান। তাহলে আমাদের মতো শ্রমিকেরা দুবেলা ডাল ভাত খেয়ে বেঁচে থাকবে।’

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. গণেশ চন্দ্র মণ্ডল জানালেন, বর্তমানে রাজবাড়ী জেলায় ২১১টি লেয়ার খামার, ৮৬২টি বয়লার ও ১২টি প্যারেন্স স্টক খামার রয়েছে। জেলার পোল্ট্রি শিল্পের সুদিন ফিরিয়ে আনতে স্বল্প সুদে খামারিদের ঋণসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। তবেই টিকে থাকবে খামারগুলো।

 

/এসটি/