যে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল যশোরের মানবাধিকারকর্মীকে

বিনয় কৃষ্ণ মল্লিকনরসিংদীর শিবপুর মডেল থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণার মামলায় যশোরের মানবাধিকারকর্মী বিনয় কৃষ্ণ মল্লিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। শনিবার দায়ের করা মামলায় সোমবার যশোরের পুলিশ বিনয় কৃষ্ণকে গ্রেফতার করে। বিদেশে পাঠানোর নাম করে বিনয় কৃষ্ণ ও তার লোকজন এক ব্যক্তির কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা হাতিয়ে নেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। তবে বাংলা ট্রিবিউনকে বিনয় কৃষ্ণ জানিয়েছেন, তিনি বাদীকে চেনেনই না।

এদিকে যশোরে গ্রেফতারের পর বিনয় কৃষ্ণকে মঙ্গলবার নংসিংদীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চন্দন কান্তি নাথের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত বিনয় কৃষ্ণের জামিন মঞ্জুর করেন। কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।  

উল্লেখ্য যশোরের পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনের পর শিবপুরের এই মামলার সূত্র ধরে মানবাধিকার সংগঠন ‘রাইটস’ যশোরের নির্বাহী পরিচালক, প্রেসক্লাব যশোরের সাবেক সহ-সভাপতি বিনয় কৃষ্ণ মল্লিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নরসিংদীর সহকারী পুলিশ সুপার (শিবপুর ও মনোহরদী সার্কেল) রিজওয়ান আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, শনিবার (১১ মার্চ) শিবপুর উপজেলার যশোর ইউনিয়নের যশোর উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুল বাতেন মোল্লা বাদী হয়ে বিনয় কৃষ্ণের নামে একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার বাদী আব্দুল বাতেন মোল্লা ২০১৪ সালের ১ জুন ক্যারিয়ার ওভারসিজ কনসালট্যান্টস নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে ইরাকে গিয়ে একটি কোম্পানিতে যোগ দেন। সেখানে বাদী বাতেনসহ ১৮০ জন শ্রমিক কাজে যোগদান করেন। পরে কাজ না থাকায় কোম্পানির মালিক থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে শ্রমিকদের তিন মাস অপেক্ষা করতে বলেন। সেখানে থাকা অবস্থায় হিউম্যান রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক পরিচয়দানকারী বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক এর সঙ্গে বাতেন মোল্লার পরিচয় ও মোবাইলে যোগাযোগ হয়। এই পরিচয়ের সূত্র ধরে বাতেনকে দেশে ফিরে আসতে বলেন বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক। দেশে ফিরে আসলে কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেওয়াসহ ভালো বেতনে অন্য দেশে পাঠানোর আশ্বাস দেন তিনি। এ কথায় বাতেন মোল্লা দেশে ফিরে আসেন। পরে বিনয় কৃষ্ণ মল্লিকসহ তার সহযোগীরা নরসিংদীতে গিয়ে বাতেন এর বাড়িতে দেখা করেন এবং এজেন্সির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে বলেন। কথামতো বাতেন এর ভাই সোহরাব বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, বিনয় কৃষ্ণ মল্লিকসহ তার সহযোগীরা বাতেন মোল্লাকে ভালো বেতনে সৌদি আরব পাঠানোর প্রলোভন দেখায়। প্রলোভনে পড়ে গত বছরের ১০ মার্চ বাতেন মোল্লা তার নিজ বাড়িতে বসে বিদেশ যাওয়ার জন্য বিনয় কৃষ্ণ ও তার লোকজনকে ৬ লাখ টাকা দেন। কিন্তু টাকা নিয়েও তাকে বিদেশ পাঠানোর নামে কালক্ষেপন করা হচ্ছিল। পরে বিদেশে না পাঠানোর অভিযোগে আব্দুল বাতেন মোল্লা বাদী হয়ে গত ১১ মার্চ শনিবার বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক এর বিরুদ্ধে শিবপুর মডেল থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় বিনয় কৃষ্ণ মল্লিককে সোমবার (১৩ মার্চ) রাতে যশোরে গ্রেফতার করা হয়। আজ মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) বিকালে তাকে নরসিংদীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পরে তার জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।   

শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দুজ্জামান বলেন, ‘বিনয় মল্লিকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া প্রতারণা মামলা সম্পর্কে যশোর পুলিশ অবগত ছিল। দায়িত্ব হিসেবেই যশোর পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করে আমাদের কাছে সোপর্দ করে।’

তবে মঙ্গলবার আদালতে মামলার বাদী বা তার আইনজীবীকে পাওয়া যায়নি।

/এফএস/  

আরও পড়ুন- 

এসপির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন, অতঃপর গ্রেফতার