সালথা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত

ফরিদপুর

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওয়াহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হওয়ায় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। গত ৩০ মার্চ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব লুৎফুন নাহার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা যায়।

ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সালথা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ওহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে সালথা থানায় দায়ের করা মামলার নম্বর ২৮০/০৯ (দন্ডবিধি ৩০২/১৪৯) অভিযোগত্রটি ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট আদালতে গৃহিত হয়েছে। এ কারণে তার ওপর উপজেলা পরিষদের ক্ষমতা অর্পণ ও জনস্বার্থের পরিপন্থি বলে সরকার মনে করেন। এ কারণে উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ (উপজেলা পরিষদ সংশোধিত) আইন ২০১১ এর ১৩ খ (১) ধারা অনুসারে সালথা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওহিদুজ্জামানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হল।

এ ব্যাপারে মো.ওহিদুজ্জামান বলেন, আমি ২০০৮ সালের ২১ মার্চের ওই হত্যা মামলার আসামি। ২০০৯ সালেই আমার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র গৃহিত হয়। এই অভিযোগপত্রটি গৃহিত হওয়ার পর ২০১১  সালের ইউপি নির্বাচন ও ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে মামলার যাবতীয় কাগজপত্র  জমা দিয়েই অংশ নেই এবং বিজয়ী হই। ২০১১ সালের পর আমার বিরুদ্ধে কোনও মামলা হয়নি বা কোনও অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে আমার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট অভিযোগপত্র আদালত কর্তৃক গৃহিত হয়েছে, এ তথ্য সঠিত নয়। তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্ত উদ্দেশ্য প্রণোদিত, বেআইনি, অজ্ঞতাপ্রসুত ও ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। আমি এ ব্যাপারে উচ্চতর আদালতের আশ্রয় নিব।

প্রসঙ্গত গত ২০০৮ সালের ২১ মার্চ ভাওয়াল ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক লিটন আলমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ২২ মার্চ লিটনের ভাই শাহ আলম বাদী হয়ে মো. ওহিদুজ্জামানসহ ৩৩ জনকে আসামি করে সালথা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন ।

ওই সময় মো. ওহিদুজ্জামান ভাওয়াল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ২০১৪ সালে বিএনপির মনোনয়নে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। গত ২০১৫ সালের ১৯ আগস্ট তিনি জাতীয় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

/জেবি/

আরও পড়তে পারেন: পুরনো আদল ফিরিয়ে আনতে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে সংস্কার