গাজীপুরে হত্যা মামলায় তিন জনের মৃতুদণ্ড, এক জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

Gazipur-06 April 17- Deth Sentence Pic- (1)

গাজীপুরের টঙ্গীতে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুর রহমান ওরফে রিয়াদকে (২৫)অপহরণের পর হত্যার দায়ে তিন জনের মৃতুদণ্ড দিয়েছে আদালত। এসময় এক নারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ কে এম এনামুল হক এ আদেশ দেন।

একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেকের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত নারীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন,টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার জামতৈল গ্রামের আব্দুস ছামাদ মাস্টারের ছেলে রেজাউল কারিম ওরফে সাগর (৩২), জামালপুর সদরের মোহনপুর গ্রামের মৃত সলিম উদ্দিনের ছেলে জামাল উদ্দিন (৩৬) ও মৌলভীবাজার সদরের বেকামোড়া গ্রামের মো. ইয়াবর মিয়ার ছেলে শাহাবুদ্দিন (২৭)। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামি হলেন জামালপুর মেলানদহ থানার বল্লবপুরের আব্দুস সামাদ মন্ডলের মেয়ে সানজিদা আক্তার লিপি (৩০)। সাগর ও লিপি স্বামী-স্ত্রী। নিহত আব্দুর রহমান রিয়াদ নোয়াখালীর সেনবাগ থানার নবীপুর গ্রামের আবুধাবী প্রবাসী খাজা মাইন উদ্দিনের ছেলে।

গাজীপুরের কোর্ট ইন্সপেক্টর রবিউল ইসলাম জানান, রিয়াদ গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগআলীতে বসবাস করে উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ পড়তো। এছাড়া রিয়াদ এসএম মাতুল কোচিং সেন্টারে কোচিং করাতো। কোচিংয়ে লিপির সঙ্গে রিয়াদের ঘনিষ্ঠতা হয়। এক পর্যায়ে ২০১৩ সালে ২৩ জুলাই চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে বিয়াদকে লিপি তার স্বামী সাগরের কাছে তুলে দেয়। সাগর ২৫ জুলাই আবুধাবীতে থাকা বিয়াদের বাবাকে মোবাইল ফোনে জানান, রিয়াদ তাদের কাছে আছে। আইনের আশ্রয় নিলে তাকে মেরে ফেলা হবে। এর দুই দিন পর ২৭ জুলাই ফের ফোন করে রিয়াদের বাবার কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরদিন নিদিষ্ট তারিখের মধ্যে ৫ লাখ টাকা না দিলে কান কেটে ফেলা হবে বলে রিয়াদের বাবার কাছে মেসেজ পাঠায়। পরে এ ঘটনায় রিয়াদের মামতো ভাই সার্জেন্ট (অব.) জাকির হোসেন ৩০ জুলাই টঙ্গি থানায় অপহরণের এজাহার এবং র‌্যাব-১ কাছে দরখাস্ত দেন। পরে র‌্যাব প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রথমে আসামি সাগরকে এবং পরে জামালপুর থেকে বাকি ৩ আসামিকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি শাহাবুদ্দিন স্বীকার করে তারা তিনজন (শাহাবুদ্দিন,সাগর ও জামাল উদ্দিন) মিলে রিয়াদকে হত্যা করে জামালপুরের একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখে।

এদিকে, রিয়াদের লাশ জামালপুরে পুলিশ অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করে  আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম দাফন করে। তার মৃত্যুর ৩৬ দিন পর  করব থেকে লাশ উত্তোলন করে জামালপুরে মায়না তদন্ত করা হয়।

তদন্ত শেষে প্রথমে টঙ্গী থানা পুলিশ ও পরে সিআইডি পুলিশ ৪ আসামির বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৩৬৫, ৩০২/৩৪ ধারায় অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর সম্পুরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১৯ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য ও শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার  আদলতের বিচারক ওই রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের পিপি অ্যাডভোকেট হারিজ উদ্দিন আহমেদ এবং আসামি পক্ষের অ্যাডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামান আকন্দ, আব্দুল জলিল ও জেবুন্নাহার মিনা মামলাটি পরিচালনা করেন।

/জেবি/

আরও পড়তে পারেন: রাগীব আলীর ১৪ বছর ও চার আসামির ১৬ বছরের কারাদণ্ড