মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকরে প্রস্তুত কাশিমপুর কারাগার

মুফতি হান্নাননিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানের ফাঁসির দণ্ড কার্যকরে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের। তবে মুফতি হান্নানের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজের কোনও কাগজপত্র রবিবার বিকাল নাগাদও কারাগারে আসেনি। আসামাত্রই রায় বাস্তবায়নে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা শুনেছি মহামান্য রাষ্ট্রপতি মুফতি হান্নানের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনও কাগজপত্র আমরা পাইনি। আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য কারা মহা পরিদর্শকের নির্দেশক্রমে এ সংক্রান্ত প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেলে আমরা বিধিমোতাবেক তা বাস্তবায়ন করবো।’

প্রসঙ্গত, গত ২২ মার্চ মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ শাহেদুল বিপুলকে উচ্চ আদালতের রায় পড়ে শোনানো হয়। গত ২৩ মার্চ কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের মৃত্যু পরোয়ানা আসে। ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে মুফতি আব্দুল হান্নান ও বিপুল প্রাণভিক্ষার আবেদন করে। রাষ্ট্রপতি আবেদন নাকচ করে দেন।

ঢাকায় সাবেক ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় মুফতি হান্নান ওশরীফ শাহেদুল বিপুলের পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তৃতীয় আসামি দেলোয়ার হোসেন রিপন সিলেট জেলা কারাগারে রয়েছেন।

২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হযরত শাহজালালের (র.) মাজারে আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। হামলায় আনোয়ার চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত এবং পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত হন। ওই মামলায় ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত পাঁচ আসামির মধ্যে মুফতি হান্নান, বিপুল ও রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

হাই কোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি গত বছরের ২৮ এপ্রিল প্রকাশিত হয়। ১৪ জুন রায় হাতে পাওয়ার পর ১৪ জুলাই আপিল করেন দুই আসামি হান্নান ও বিপুল। অপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রিপন আপিল না করলেও আপিল বিভাগ তার জন্য আইনজীবী নিয়োগ করেন।

আপিলের শুনানি শেষে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর আসামিদের আপিল খারিজ  হয়ে যায়। গত ১৭ জানুয়ারি এ রায় প্রকাশের পর আসামিরা পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেন। চলতি বছরের ১৯ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তিন জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন (রিভিউ) খারিজ করে দেন।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার মিজানুর রহমান জানান, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুফতি হান্নান ২০১৩ সাল থেকে কাশিমপুরের হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তবে হাজিরা দেওয়ার জন্য এ কারাগার থেকে দেশের বিভিন্ন আদালতে নেওয়া হয়।

/এফএস/ 

আরও পড়ুন- ‘মুফতি হান্নানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি নিচ্ছে কারাগার’