নারায়ণগঞ্জে ময়লা অপসারণ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে শহরবাসী

নারায়ণগঞ্জ‘আগে মহল্লার বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার ডাস্টবিন থাকতো। কিন্তু কয়েক বছর ধরে সেটা নাই। বাড়ি থেকে সংগ্রহ করে ময়লা আবর্জনা,সেটাও অনিয়মিত। তারপরেও প্রতি মাসে গুণতে হয় ৮০ টাকা করে। তাও আমরা সহ্য করে নিয়েছিলাম। কিন্তু কিছু দিন ধরে ময়লা সংগ্রহ একেবারেই বন্ধ। এখন এসব ময়লা নিয়ে খুব বিপদে আছি। ফেলার কোনও জায়গা পাচ্ছি না। ঘরে থাকতে থাকতে শিশুদের রোগবালাই বাড়ছে।’

ক্ষোভ আর আক্ষেপ নিয়েই কথাগুলো বলছিলেন নারায়ণগঞ্জ শহরের ডনচেম্বার এলাকার গৃহবধূ হাবিবা আক্তার। শুধু এ গৃহবধূর না নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার প্রায় সব লোকজনদের বক্তব্য এখন এ রকম।

এদিকে ময়লা আবর্জনা বন্ধ থাকায় এসব অপসারণ নিয়ে বেশ বিপাকে রয়েছেন বাড়ি মালিকেরা। অপরদিকে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সোমবার (১৭ এপ্রিল) সকাল থেকে অপসারণ শুরু হয়েছে। পুরো কাজ শেষ হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। তবে অনেক এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ তাদের এলাকাতে এখনও ময়লা অপসারণ শুরু হয়নি।

শহরের উকিলপাড়া এলাকার আতিকুর রহমান জানান, তাদের ময়লা ৪-৫ দিন ধরে অপসারণ করা হচ্ছে না। আর কোথাও ফেলার জায়গা পাচ্ছেন না। তাই এগুলো বাড়িতেই পলিথিন মুড়িয়ে রাখতে হচ্ছে। দুর্গন্ধে ঘরে থাকা যাচ্ছে না।

আমলাপাড়া এলাকার সাইদুল ইসলাম বলেন, আগে থেকেই অনিয়মিত ছিল ময়লা অপসারণ। একদিন আসলে পরের দিন কখনও কখনও দেখা মিলতো না। তবে মাসে ৮০ টাকা করে ঠিকই দিতে হতো। এখন ৪ থেকে ৫ দিন টানা ময়লা না নেওয়ায় খুব দুর্ভোগে আছি।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন সূত্র মতে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পঞ্চবটিতে একটি ময়লা শোধনাগার প্রকল্পের কার নির্মাণাধীন আছে। আর গত কয়েক বছর ধরেই ‘এইড বাংলাদেশ’ নামের একটি এনজিও ভ্যান গাড়ির মাধ্যমে শহরের সবগুলো এলাকা থেকে ময়লা আবর্জনা সংগ্রহ করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লায় খান সাহেব ওসমানী আলী জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনে ফেলতো। পরে এক বছর ধরে সে ময়লা একই রোডের জালকুড়িতে রাস্তার পাশে ফেলা হচ্ছে। গত ১২ এপ্রিল বুধবার পরিবেশ অধিদফতর ‘এইড বাংলাদেশে’র সুপার ভাইজার মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে। ওই ঘটনার পর থেকেই মূলত এইড বাংলাদেশের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা গাড়ি দিয়ে ময়লা আবর্জনা অপসারণ বন্ধ রেখেছিল।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হিরণ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পরিবেশ অধিদফতর থেকে খোলা জায়গায় ময়লা ফেলার কারণে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও অর্থদণ্ড করা হয়। যার জন্য তারা ক্ষোভে বিভিন্ন এলাকা থেকে ময়লা নেওয়া বন্ধ করে দেয়। তবে এ বিষয়ে তাদের বলা হয়েছে, যতদিন পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ডাম্পিং ব্যবস্থা হচ্ছে না, ততোদিন কষ্ট হলেও যেন বাসা বাড়ির ময়লা সংগ্রহ করে। সোমবার থেকে অবশ্য ময়লা অপসারণ শুরু হয়েছে।’

/এআর/