যৌন হয়রানির অভিযোগে শরীয়তপুর সদর উপজেলার একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক এস এম কাওসার মিলন ও স্কুলের দফতরি জাহিদুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার দুপুরে তাদের আদালতে উপস্থিত করা হলে বিচারক তাদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে বিনোদপুর ঢালীকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক এসএম কাওসারকে চাকুরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক এসএম কাওসার ও দফতরি জাহিদুল ইসলামকে বুধবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আসামি পক্ষের আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কানিজ তানিয়া রূপা জামিনের আবেদন নাকচ করে দুজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে বিচারক কানিজ তানিয়া রূপা বিনোদপুর ঢালী কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন ছাত্রীর জবানবন্দী নেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী নজরুল মৃধা জানান, আমরা জামিন চেয়েছিলাম। কিন্তু বিচারক নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে চাকুরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফারুক আলম তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাকে বরখাস্ত করার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক ইন্দু ভূষণ দেব এর কাছে সুপারিশ করেন। পরে তিনি তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, তদন্তে যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রধান শিক্ষক এসএম কাওসারকে চাকুরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সদর উপজেলার বিনোদপুর ঢালীকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম কাওসার এর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে তদন্তের জন্য সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেন এক অভিভাবক। মঙ্গলবার সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পান। পরে সন্ধ্যায় অভিভাবক হাবিবুর রহমান স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও দফতরির বিরুদ্ধে পালং মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করলে, রাতেই পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: নাস্তিকদের জন্য আমার চোখের ইশারাই যথেষ্ট: শামীম ওসমান