মঙ্গলবাড়িয়ার লিচু: সচ্ছলতা এনেছে কিশোরগঞ্জের চাষির ঘরে

 

কিশোরগঞ্জের মঙ্গলবাড়িয়ার লিচুমিষ্টি স্বাধ ও সুঘ্রাণের জন্য কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার মঙ্গলবাড়িয়ার লিচুর খ্যাতি আজ দেশজুড়ে। ভরা মৌসুমে ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় মুখর এ অঞ্চলের লিচু বাগানগুলো। এলাকার বেশিরভাগ কৃষক লিচু চাষকেই আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছেন। লিচু বাগানে কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেকে।

মঙ্গলবাড়িয়া পাকুন্দিয়া পৌর এলাকার একটি পরিচিত গ্রাম। বিস্তীর্ণ এলাকায় লিচু আর লিচু। গ্রামের নামেই ফলটির নামকরণ হয়েছে ‘মঙ্গলবাড়িয়ার লিচু’।  

কেবল কিশোরগঞ্জ নয়, দেশের অন্যান্য জেলায়ও মঙ্গলবাড়িয়ার লিচুর রয়েছে বাড়তি চাহিদা। দামও অন্য জাতের লিচুর চেয়ে একটু বেশি।  

চাষিরা জানান, দেশের অন্যান্য জেলায়ও মঙ্গলবাড়িয়ার লিচুর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এ গ্রামটিকে ঘিরে প্রায় সাত থেকে আট হাজার লিচু গাছ রয়েছে। লিচুর মৌসুমে অন্য কোনও ফসল চাষে আগ্রহী হন না তারা। কারণ লিচু চাষে এ সময়ে প্রচুর শ্রম দিতে হয়। আর ফলনও হয় ভালো। বিক্রি শেষে লাভের পরিমাণ থাকে অনেক বেশি।

কিশোরগঞ্জের মঙ্গলবাড়িয়ার লিচু বাগান

পাইকারি ব্যবসায়ী ও চাষী তাওহিদ মিয়া বলেন, ‘আমার ১৫১টি লিচু গাছ আছে। এসব গাছ আমি আগাম কিনে থাকি। লিচু উৎপাদন বাবদ আমার ৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখান থেকে ১১/১২ লাখ টাকার লিচু বিক্রি করা সম্ভব হবে।’

ঠিক কত বছর আগে,  কিভাবে এখানে লিচু চাষের প্রচলন শুরু হয়েছে, তা জানা না গেলেও প্রবীণদের ধারণা, অন্তত দুই শ বছর আগে এখানে লিচু চাষ শুরু হয়। গত কয়েক দশক ধরে এ গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ শুরু হয়। বর্তমানে শুধু এ গ্রাম নয়, আশপাশের গ্রামগুলোয়ও লিচু চাষ ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকার অনেক কৃষক লিচু চাষকেই আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছেন। অনেক কৃষকেরই রয়েছে শতাধিক লিচু গাছ।   

কিশোরগঞ্জের মঙ্গলবাড়িয়ার লিচু বাগানের গাছে গাছে ঝুলছে পাকা লিচু

এ অঞ্চলের চাষিদের মতে, মঙ্গলবাড়িয়ার লিচু চাষের ফলে ধীরে ধীর বদলে যাচ্ছে কিশোরগঞ্জের অর্থনীতির চিত্র। তাদের সংসারে ফিরে আসছে সচ্ছলতা। তবে, সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পেলে এই লিচুর চাষ আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হতো।   

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘লিচু বাগানে কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন এলাকার গরিবরা। এই এলাকায় যে পরিমাণ লিচুর গাছ রয়েছে, সেগুলো থেকে এবার সাড়ে সাত থেকে আট কোটি টাকা আয় হবে চাষিদের। এ লিচু আমাদের দেশের বড় সম্পদ। উদ্যান তত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র থেকে কয়েক বছর ধরে এ লিচু চাষের ডাটা সংগ্রহ করাসহ কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।’

/এমএনএইচ/