শ্রীপুরে বনকর্মীদের মামলার আসামি দুই মৃত ব্যক্তি!

 

গাজীপুরশ্রীপুরে বনকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় দুই মৃত ব্যক্তিসহ নাম উল্লেখ করে নয় জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার ৬নং আসামি অজ্ঞাত ব্যক্তির ছেলে শমসের আলী ও ৭নং আসামি মহর আলী মৃত। শ্রীপুরের বরমী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাদল সরকার স্বাক্ষরিত মৃত্যু সনদে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
মামলায় দুই মৃত ব্যক্তি ছাড়া অপর আসামিরা হলেন— আব্দুছ ছালাম, আলামিন, মাসুদ, পারুল বেগম ও জুলেখা। মামলার ৮ নং আসামি শমসের আলীর মেয়ে মিতা বেগম নামে কোনও নারী ওই এলাকায় নেই বলে জানা গেছে।
আসামিদের মধ্যে দুই মৃত ব্যক্তি থাকার বিষয়ে শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযুক্ত যদি কেউ মৃত হয়ে থাকেন তাহলে তদন্তপূর্বক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ যদি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না হয়ে থাকেন তার নামও তদন্ত প্রতিবেদন থেকে বাদ দেওয়া হবে।’

সোমবার বিকালে উপজেলার গাড়ারন খলারটেক গ্রামে বন দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় গ্রামবাসী ও বনকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে চারজন বনকর্মীসহ উভয়পক্ষের ১০-১৫ জন আহত হন। এ সময় স্থানীয়রা বনকর্মীদের দুটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে শ্রীপুর সদর বিট কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. রহমত আলীর ভাতিজা আহসানসহ নয় জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত অন্তত ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

উপজেলা ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানিয়েছিলেন, বন দখলের সময় বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেয়। এ সময় গ্রামবাসী তাদের ওপর হামলা করেন। আহত বনকর্মীদের চারজন শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

গাড়ারন খলারটেক গ্রামের আব্দুস ছালাম জানান, কিছুদিন আগে ঝড়ে টিনের চাল ও বেড়া ভেঙে যায়। সোমবার ওই ঘর মেরামতের সময় ফরেস্ট বিট কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বনপ্রহরীদের নিয়ে মেরামতে বাধা দেন। এসময় তার স্ত্রী পারুলের কাছে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ আব্দুস ছালামের। তবে টাকা দাবির কথা অস্বীকার করেছেন রফিকুল ইসলাম।

/এএ/