গাজীপুরের শ্রীপুর শহরের আনসার রোড (চেয়ারম্যান বাড়ী) এলাকায় পরিবেশ অধিদফতরের অনুমতি ছাড়াই ব্যাটারি উৎপাদন করছে জেলি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানি লিমিটেড নামের একটি কারখানা। উন্মুক্ত স্থানে পুরনো ব্যাটারি পোড়ানো, সীসা গলানোর কাজ করায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আশেপাশের পরিবেশ। এলাকাবাসী বারবার অভিযোগ করার পরও কাজ হয়নি। এই কারখানাটিতেই ৩১ মে আগুন ধরে যায়। এরপরই এ কারখানার বিরুদ্ধে থাকা সব অভিযোগ আবারও সামনে চলে আসে। এ ব্যাপারে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বাইরে থেকে পুরনো ব্যাটারি সংগ্রহ করে কারখানার ভেতরে সেগুলো পোড়ানো হয়। কারখানার আশপাশে ফসলি জমি ও বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এলাকাবাসী বেশ কয়েকবার কারখানা স্থাপানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি।’
৮৪ নং কেওয়া পূর্বখণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমা ইয়াসমিন বলেন, ‘কারখানার আশপাশের বাতাসে ঝাঁঝালো গন্ধ, শ্বাসকষ্ট, পেটে যন্ত্রণাদায়ক ব্যথা এমনকি এ পরিবেশে বেশিক্ষণ থাকলে চোখে ঝাপসা দেখা যায়।’
তিনি আরও বলেন, সপ্তাহ খানেক আগে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক বমি শুরু করেন। এক অভিভাবক অভিযোগ করেন, তার মেয়ে বাসায় সুস্থ থাকলেও স্কুলে আসলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। অনেক অভিভাবক কারখানার কারণে সৃষ্ট পরিবেশের জন্য তাদের সন্তানদের স্কুল থেকে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করেছেন।
স্থানীয় রায়হান প্রধান বলেন, কারখানার আশেপাশে গাছপালাও মরে যাচ্ছে। গত এক বছরে কারখানা আশপাশের এলাকার ঘাস খেয়ে মারা গেছে আটটি গরু । কারখানার উৎপাদিত পণ্যের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণেই এমন হচ্ছে।
জানা গেছে, কারখানায় কর্মরতরা চীনা নাগরিক।
পরিবেশ অধিদফতরের (গাজীপুর) উপপরিচালক সোনিয়া সুলতানা বলেন, কারখানাটি অবস্থানগত অনুমতিপত্র নিয়েছে। কিন্তু পরিবেশগত কোনও ছাড়পত্র নেয়নি। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছে। এলাকাবাসীর কাছ থেকে কারখানার বিরূপ প্রভাব নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণেই পরিবেশ ছাড়পত্র আটকে আছে।
/এসএস/এসটি/