নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপ-শহরের বিপুল পরিমাণ অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার হওয়া ডোবার পানি সেঁচে ফেলার কাজ চলছে। বড় পাচঁটি ও ছোট তিনটি স্যালো মেশিন দিয়ে কাজ চলছে। গত ৭ দিনে ডোবার দুই তৃতীয়াংশ পানি সেঁচা সম্পন্ন হয়েছে। ডোবাটিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় শতাধিক সদস্য নজরদারিতে রেখেছে।
রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক ( অপারেশন) সাজ্জাদ রুমন জানান, ২ জুন পূর্বাচল উপ-শহরের ৫ নম্বর সেক্টরের ডোবা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। সেখানে আরও অস্ত্র-গোলাবারুদ আছে কিনা তা দেখতে ডোবাটি সেঁচার সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ প্রশাসন। ২ জুন থেকে রাজউক, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় পাম্প ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে স্যালো মেশিন দিয়ে পানি নিষ্কাসনের কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু ডোবাটি আকারে অনেক বড় হওয়ায় একং পানির পরিমাণ বেশি থাকায় সময় লাগছে।
নারায়ণগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (গ সার্কেল) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ জানান, ডোবায় পানির লেয়ার এক এক জায়গায় এক এক রকম। যে স্থানটিতে অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে সেখানে এখনও ৫ থেকে ৬ ফুট পানি রয়েছে। তবে ১০ ইঞ্চি পাইপের দুটি মেশিনসহ বড় পাচঁটি ও ছোট তিনটি পাম্প দিয়ে পানির সেঁচার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। আশা করা যাচ্ছে দুই একদিন মধ্যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে লেকে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তল্লাশি চালানো যাবে।
এদিকে, মামলার তদন্তকারী সংস্থা জেলা গোয়েন্দা পুলিশরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। আসামিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। তবে আনুষ্ঠনিকভাবে তদন্তের অগ্রগতি বলার সময় এখনও হয়নি। তদন্তে বড় কোনও অগ্রগতি হলে জানানো হবে।
প্রসঙ্গত, ২ জুন জেলা গোয়েন্দা পুলিশ র্পবাচল উপশহরের ৩ ও ৫ নং সেক্টরের ওই ডোবা থেকে দূরবীন, দুটি রকেট লঞ্চার, ৬২ চায়নিজ সাব মেশিনগান, এসএমজি ম্যাগাজিন ৪৪টি, ৫টি ৭.৬২ পিস্তল, ৫৯টি শেল, ৪২টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ২টি ওয়াকিটকি, বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস, টাইম ফিউজসহ বিপুল পরিমাণ গোলা-বারুদ ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র পলিথিনে মোড়ানো ছিল। এ ঘটনায় পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।
/এসটি/