নরসিংদীতে আড়াই লাখেরও বেশি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। বিগত দেড় বছর দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিমাসে ২০ কোটি টাকার গ্যাস সাশ্রয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিতাস নরসিংদী কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. তৌওহিদুল ইসলাম। পাশাপাশি মানুষের মধ্যে অবৈধ সংযোগ নেওয়ার প্রবণতাও বন্ধ হয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে এলাকাবাসী ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নরসিংদীর তিন উপজেলা শিবপুর, পলাশ ও নরসিংদী সদর উপজেলায় গ্যাসের অবৈধ সংযোগ নেওয়ার প্রবণতা বেড়ে গিয়েছিল। এ প্রবণতা নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজার উপজেলায়ও ছড়িয়ে পড়েছিল। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ছত্র ছায়ায় এক শ্রেণির দালাল দিনের পর দিন এসব অবৈধ সংযোগ দিয়ে আসছিল। তারা ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ দেয়।এর মধ্যে বিভিন্ন বাড়িতে ২ লাখ ৬১ হাজার ৯ শ’ ৬৪টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন শিল্পকারখানায়ও নেওয়া হয় এসব ঝুকিপূর্ণ ও অবৈধ গ্যাস সংযোগ। প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় তিতাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ গ্যাসের বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন এর সঙ্গে জড়িত। এককালীন মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার পর প্রতিমাসে বিল বাবদ টাকা আদায় করা হতো। নিম্নমানের পাইপ ও অপরিকল্পিতভাবে এসব সংযোগ দেওয়ার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিসহ বেড়ে গিয়েছিল গ্যাস অপচয়। এসব কারণে গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছিল বাসা বাড়ির রান্নাসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানার উৎপাদন।
২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সহায়তায় এসব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযান শুরু করে তিতাস কর্তৃপক্ষ। অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসন ও তিতাস কর্তৃপক্ষ। গ্রাহকদের সচেতন করাসহ দীর্ঘ দেড় বছর দফায় দফায় ১৩৭টি অভিযান চালিয়ে বিচ্ছিন্ন করা হয় সব অবৈধ গ্যাস সংযোগ। এ সময় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৬০টি মামলা দায়ের করে নরসিংদী তিতাস কর্তৃপক্ষ।
তিতাস নরসিংদী কার্যালয় এর ব্যবস্থাপক (কারিগরি) মো. আনোয়ার পারভেজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিম্নমানের পাইপ দিয়ে সংযোগ নেওয়ার কারণে প্রতিটি গ্যাস সংযোগই ছিল ঝুকিঁপূর্ণ। দিনের পর দিন এই প্রবণতা বেড়েই চলছিল। আমরা প্রতিটি অভিযানের সময় দীর্ঘ পাইপ ও রাইজারসহ সব যন্ত্রপাতি তুলে এনেছি।
সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল আলিম রাসেল বলেন,‘অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ফলে বৈধ গ্রাহকদের সমস্যা অনেকটা দূর হয়েছে।
নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,‘শতভাগ অবৈধ সংযোগ মুক্ত করায় তিতাস প্রশংসার দাবি রাখে। এরই মধ্যে সুফল পেতে শুরু করেছে শিল্পকারখানার মালিকরা।
তিতাস নরসিংদী কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. তৌওহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেড় বছর ধরে টানা অভিযানের ফলে নরসিংদী তিতাস অবৈধ সংযোগ মুক্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মানুষকে সচেতন করতে পারায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ হয়েছে। গ্যাসের অপচয় বন্ধ হওয়ায় প্রতিমাসে ২০ কোটি টাকার গ্যাস সাশ্রয় হচ্ছে।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন : নড়াইলে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৯