নারায়ণগঞ্জ বন্দরের পিয়ার সাত্তার লফিত উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা শেষে বলেন, ‘আমি এখন আতঙ্কে আছি। আমাকে স্কুল থেকে তাড়ানোর জন্য এ মামলা দেওয়া হয়েছে। এটা পূর্বপরিকল্পনার অংশ।’
বৃহস্পতিবার শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে এক শিক্ষিকার করা মামলার শুনানি হয়। শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটি আমলি আদালত ‘গ’ এর বিচারক আফতাব উদ্দিন মামলাটি বিচারিক আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্যামল কান্তি ভক্তের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন।
আদালতে হাজিরা শেষে শ্যামল কান্তি ভক্ত অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি যাতে মামলাটি না করি এবং উঠিয়ে নেই সেই কারণে আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমি একজন শিক্ষক, আমি কোনও রাজনীতি করি না, আমাকে হয়রানির জন্য ওই মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমি মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কল্যানদীতে পিয়ার সাত্তার লফিত উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে কান ধরে উঠ বস করানো হয়। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকাশ পেলে সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। গত বছরের ১৭ জুলাই ওই স্কুলের শিক্ষিকা মোর্শেদা বাদী হয়ে এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে গত ২৪ মে আদালতে ওই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। ওই দিন বিকেলে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আত্মসর্মন করে জামিন চাইলে আদালত তা না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত ৩১ মে জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালত আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত শ্যামল কান্তি ভক্তের অন্তবর্তীকালিন জামিন মঞ্জুর করেন।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: এক মাসেও স্বাভাবিক হয়নি রাঙামাটির জনজীবন