৭ কারণে গাজীপুরে বয়লার বিস্ফোরণ: তদন্ত প্রতিবেদন

 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীরগাজীপুরে বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনার ৭টি কারণ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর।

গত ৩ জুলাই গাজীপুরের কোনাবাড়ী নয়াপাড়া এলাকায় মাল্টিফ্যাবস লিমিটেড কোম্পানিতে বয়লার বিস্ফোরণের  ঘটনা ঘটে। এতে ১৩ জন নিহত ও ৫০ জন আহত হন।

জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনে যে সাতটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে এর মধ্যে ৫টি কারিগরি ও ২টি প্রশাসনিক। কারণগুলো হলো প্রেসার গেজটি নষ্ট হয়ে যাওয়া, ডেলিভারি লাইন বন্ধ থাকা, লিভারটিতে স্লট কাটা না থাকার ফলে বয়লারের কম্পনে ডেড ওয়েট উচ্চ চাপের দিকে সরে গিয়ে ওভার প্রেসার সিচুয়েশন তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়া সুপারভিশন ঠিক ছিল না এবং বয়লার চালু করতে মেইটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ারের অনুমতি নেওয়া হয়নি। অপারেটররা প্রেসার রিলিজ করতে ব্যর্থ ছিলেন।  এছাড়া বয়লার মেইনটেন্যান্স কর্তৃপক্ষের বয়লার অপারেটরদের ওপর উপযুক্ত তদারকির অভাব ছিল।’

জেলা প্রশাসক জানান, তদন্ত কমিটি ২৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। এর মধ্যে ৯১ পৃষ্ঠার সংযুক্তি দেওয়া হয়েছে। তদন্তে মোট ২৯ জনের জাবনবন্দি নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ওই কারখানায় ৫ টন ও ১০ টনের ২টি বয়লার ছিল। এর মধ্যে ৫ টনের বয়লারটি বিস্ফোরিত হয় এবং ১০ টনের বয়লারটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বয়লার বিস্ফোরণের রাতেই গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাহেনুল ইসলামকে প্রধান করে আট সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

/জেবি/এমএনএইচ/