সড়ক ও নৌপথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল তাদের

এভাবে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয় লোকজন

গাজীপুরের শ্রীপুর-বরমী সড়কটি চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সিংহশ্রী সেতু পর্যন্ত এখন আর গাড়ি যায় না। তাই এ এলাকার বাসিন্দারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শীতলক্ষ্যা নদী পার হয় ট্রলার বা নৌকায় করে। নৌ দুর্ঘটনাও এবং প্রাণহানির ঘটছে মাঝে মধ্যে। ১৬ জুলাই রাত ১০টার দিকে শীতলক্ষ্যা নদীতে পোশাক শ্রমিক বহনকারী একটি ট্রলার ডুবে যায়। এতে কাপাসিয়া উপজেলার সিংহশ্রী ভিটিপাড়া গ্রামের সেলিনার (২৮) মৃত্যু হয়। তিনি শ্রীপুরের হ্যামস ফ্যাশন লিমিটেডের সুইং অপারেটর ছিলেন।

সেলিনার বাবা গিয়াস উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘কাজ শেষে কারখানার নিজস্ব বাস বাড়ির পাশে পৌঁছে দিয়ে যেতো।এক মাস ধরে শ্রীপুর-বরমী সড়ক যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।তারপর থেকে অন্যান্য শ্রমিকদের সঙ্গে সেলিনাও নদী পার হয়ে বাড়ি ফিরতো।’

শ্রীপুর-বরমী সড়কের বেহাল দশা

সেলিনার সহকর্মী নার্গিস সুলতানা জানান,বরমী বাজার ঘাট থেকে তারা কমপক্ষে ১৮ জন সিংহশ্রী বাজারঘাটের উদ্দেশে ট্রলারে যাত্রা করেন। তাদের ট্রলারে এত কম আলোর একটি লাইট জ্বলছিল যে দূর থেকে তা ঠিকমতো দেখাই দায়। ঘাটের ৫০ ফুট দূরে  বিপরীত দিক থেকে বালু বহনের কাজের ব্যবহত একটি নৌকা আসছিল। সেটিতে কোনও আলোই ছিল না। ওই নৌকাটি তাদের ট্রলারের ওপর উঠে পড়ে। এরপর তাদের ট্রলারটি মিনিট খানেকের মধ্যেই ডুবে যায়। ততক্ষণে সবাই পানিতে পড়ে যায়। অনেকেই সাঁতরাতে থাকে। পরে খালি নৌকা এসে তাদের উদ্ধার করে। কিন্তু সেলিনা ডুবে যায়।

শ্রীপুর-বরমী সড়কের বেহাল দশা

বরমীর পেলাইদ গ্রামের সুরুজ মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বালুবাহী নৌকায় সাধারণত লাইট ব্যবহার করা হয় না। হারিকেন অথবা টর্চ লাইট থাকে।

সিংহশ্রী ক্যাম্পের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মনির হোসেন, ‘নদীতে সাধারণত রাতে নৌচলাচল বন্ধ থাকে। মাসের ১০ দিন রাতে নদীতে পুলিশি টহল থাকে।’

শ্রীপুর-বরমী সড়কের বেহাল দশা

রাস্তা সংস্কার প্রসঙ্গে শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুজায়েত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘শ্রীপুর-বরমী সড়কটি নতুন পরিকল্পনায় নতুন প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই এর কাজ শুরু হবে।’

 

/এনআই/জেএইচ/এসটি/