যৌতুকের জন্য অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

রুমানা আক্তারনরসিংদীর পলাশ উপজেলায় যৌতুকের জন্য রুমানা আক্তার নামে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। রবিবার (২৩ জুলাই) রাতে উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের ইসলাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পরে সোমবার (২৪ জুলাই) সকালে পুলিশ রুমানার লাশ তার স্বামীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত রুমানার একটি দেড় বছরের মেয়ে সন্তানও রয়েছে বলে জানা যায়। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী লাবন মিয়া পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ৩ বছর আগে ইসলাম পাড়া এলাকার নয়ন মিয়ার ছেলে লাবন মিয়ার সঙ্গে রুমানার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন যেতে না যেতেই স্বামী লাবন মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। এরপর থেকে প্রায় সময় যৌতুকের জন্য রুমার ওপর তার স্বামী নির্যাতন চালাতো। টাকার জন্য একাধিকবার রুমাকে পিটিয়ে নারায়ণগঞ্জ রুপগঞ্জের তার বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। মেয়ের ওপর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তার বাবা পর্যায়ক্রমে লাবনকে সাত লাখ টাকা যৌতুক দেয়।

রবিবার (২৩ জুলাই) রাতে লাবন আবারও রুমানাকে বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার কথা বললে, রুমানা তাতে অস্বীকৃতি জানায়। এসময় লাবন তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করলে বাড়িতেই রুমানার মৃত্যু হয়।

নিহত রুমানার বাবা খোরশেদ আলম জানান, মৃত্যুর এক ঘণ্টা আগে তার মেয়ে তাকে ফোন দিয়ে বলে বাবা তুমি সকাল সকাল আমার এখানে আসবে। আমাকে তারা অনেক নির্যাতন করছে। কিন্তু সেই সকাল আর হলো না। একঘন্টা পর মেয়ের স্বামীর বাড়ির পাশের এক লোক আমাকে ফোন করে বলে রুমানা মারা গেছে। তারা আমার মেয়েকে টাকার জন্য মেরে ফেলেছে।

ইসলাম পাড়া এলাকার ইউপি সদস্য কৌশিকুল ইসলাম নয়ন জানান, রুমানাকে তার স্বামী টাকার জন্য প্রায়ই মারধর করতো। মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং পুলিশকে খবর দেয়।

পলাশ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই জাহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এ ব্যাপারে নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলার অভিযোগ দায়ের করেছেন। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। তাদের আটকে অভিযান চলছে।

/এআর/