চার দিন পর অপহৃত শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী দলের নেতাসহ গ্রেফতার ৩

নারায়ণগঞ্জ উদ্ধার শিশুসহ তিন অপহরণকারী (ছবি-নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি)

কুমিল্লার মুরাদনগর থেকে অপহৃত শিশু মো. নয়নকে (০৫) চার দিন পর নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জের মুড়াপাড়া এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব। এসময়  মূল অপহণকারীসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত আদমজী র‌্যাব-১১ কার্যালয়ের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শাহ মো. মশিউর রহমান শুক্রবার সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানান।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, অপহরণকারী দলের নেতা বোরহান উদ্দিন (২৭) তার প্রথম স্ত্রী শারিফা বেগম (২০) ও সোহেল আহমেদ সোহাগ (২৪)।

র‌্যাবের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কুমিল্লার মুরাদ নগরের উত্তরকান্দি গ্রামের শিশু নয়ন (০৫) তার নানী রোসিয়া বেগমের কাছে থকাতো। গত ৩১ জুলাই রাতে বোরহানের প্রথম স্ত্রী শরিফা তার পালক মেয়ে রিয়া মনিকে সঙ্গে নিয়ে ওই থাকার জন্য আশ্রয় চায়। রোসিয়া বেগম অসহায় নারী ভেবে শরিফাকে রাতে থাকতে দেয়। পরে দিন (১ আগস্ট )মঙ্গলবার শিশু নয়নকে খাবার  কিনে দেওয়ার কথা বলে অপহরণ করে নারায়ণগঞ্জের ভুলতা মুড়াপাড়া এলাকায় নিয়ে আসে। এর পর অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী বোরহান উদ্দিন মোবাইল ফোনে নয়নের চাচাতো নানা আক্কাসা মিয়ার কাছে নয়নকে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। (২ আগস্ট) বুধবার  আক্কাস মিয়া কুমিল্লার মুরাদ নগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। আক্কাস মিয়া মামলার কপিসহ নাতিকে উদ্ধাররে জন্য র‌্যাব-১১ কাছে আবেদন করেন। পরে র‌্যাব তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে (৩ আগষ্ট ) বৃহস্প্রতিবার রাতে রাজধানীর আসাদ গেইট এলাকা থেকে বোরহান উদ্দিন ও তার সহযোগী সোহলে আহমেদ সোহাগকে আটক করে। পরে তাদের স্বীবকারোক্তি অনুযায়ী রাতেই রুপগঞ্জের ভুলতা মুড়াপাড়া এলাকার বোরহানের ভাড়া বাসা থেকে শিশু নয়নকে উদ্ধার ও শরিফাকে আটক করা হয়।

র‌্যাব জানায়, বোরহান উদ্দিন শিশু অপহরনকারী চক্রের মূল হোতা। শিশু অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করা তাদের পেশা। গত ২৮ জুন বোরহানের দ্বিতীয় স্ত্রী তামান্না বেগম নরসিংদী সদর থানার চৌয়ালী এলাকা থেকে একই কায়দায় সাত মাসের শিশু সাবিকুর নাহার তোহাকে অপহরণ করে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তামান্না বেগমের কাছ থেকে শিশু সাবিকুন নাহার তোহাকে উদ্ধার ও তামান্না বেগমকে গ্রেফতার করে। ওই মামলার পলাতক আসামি বোরহান উদ্দিন।

গ্রেফতারকৃত আসামি বোরহান উদ্দিন সম্প্রতি শিশু অপহরণ ঘটনায় তার সহযোগীদের নিয়ে গ্রেফতার হয়। এক বছর ছয় মাস জেল খেটে জামিনে বের হয়ে তারা আবারও এই কাজ শুরু করে। বোরহান উদ্দিন কয়েকটি বিয়ে করেছে এবং তার স্ত্রীরাও এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

র‌্যাব জানায়, অপহরণের পর আইনশৃংখলা বাহিনী বা আশেপাশের মানুষ যাতে টের না পায় সেজন্য তারা শিশুদের চেতনা নাশক ইনজেকশন পুশ করে অচেতন করে রাখতো। গ্রেফতারকৃত সোহেল আহমেদ সোহাগ র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের এই চক্রের কয়েকজন সদস্যর নাম জানিয়েছে। তারা হলো, বাবু, আবু বক্কর সিদ্দিক, হামিদ আলী, শাকিল, সাইফুল, বকুল, রাইসুল ও জামির।

শিশু অপহরণকারী চক্রটি কুমিল্লা, মুরাদনগর, ও কিশোরগঞ্জসহ ঢাকার আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশু অপহরণ করে তাদের ভাড়া করা বিভিন্ন বাসায় অচেতন করে রেখে দিতো। র‌্যাবের  দাবি শিশু অপহরকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত যাদের নাম এসেছে তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যহত রয়েছে।

/জেবি/

আরও পড়তে পারেন:  বীরপ্রতীক তারামন বিবিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হয়েছে