কালীগঞ্জে বিএনপি-ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সংঘর্ষ, আহত ১৭

৭৭৭

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বিএনপি এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্য পাল্টা-পাল্টি হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার বিকেলে বক্তারপুর এলাকায় ওই ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় যুবলীগ-ছাত্রলীগের অন্তত ১০জন নেতা-কর্মীসহ প্রতিপক্ষের অন্তত সাতজন  আহত হয়েছেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ছাত্রলীগ-যুবলীগ উপজেলা পরিষদের সামনে প্রতিবাদ সভার ডাক দিয়েছে।

আহতদের মধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এস এম আলমগীর হোসেন, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ আলম শেখ, জামালপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ হাসান জুবায়ের, নাগরী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য নাঈম শেখ, জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নাজমুল হোসেন কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া বিএনপি কর্মী আমিনুল ইসলাম ও রফিজুল ইসলামসহ সাত জনকে স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ সম্পাদক আল রাসু অমিত জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা-কর্মীরা মোটরসাইকেল বহর নিয়ে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য বক্তারপুর এলাকায় পৌঁছে। এসময় বিএিনপির স্থানীয় কর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। এতে তাদের ৮-১০ জন কর্মী আহত হন। পরে তাদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ক্লিনিকে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

এদিকে, গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন জানান, সোমবার বিকালে বক্তারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিজুল ইসলাম দর্জির বাড়িতে বিএনপি’র ঈদ পুনর্মিলিনী অনুষ্ঠান চলাকালে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা গিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। এতে অন্তত সাত জন আহত হয়েছেন। 

কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তরিকুল ইসলাম জানান,ওই হামালায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীসহ ৮-১০ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া মঙ্গলবার বিকেলে বেরুয়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সার্জেন্ট সামসুল করিম খান সিরাজ সংঘ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পার্টির ঈদ পুর্ণমিলনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মহড়া করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আজম খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সোমবার ঘটনার পর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় পার্টির ঈদ পুনর্মিলনী ও দোওয়া অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তনের নিদের্শ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম মিলন জানান, দলের সদস্য সচিব আবু জাফর রিপনের আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ ৭ দিন আগে ওই মাঠে অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়। সেখানে প্যান্ডেলসহ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য আজম খান জানান, নিরাপত্তা ও শান্তির স্বার্থে  অনুষ্ঠান তার কালীগঞ্জের বাড়িতে করার সিদ্ধান্ত নেন। তারপরও ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সোমবার বিকাল থেকে তার বাড়ির কাছে জড়ো হয়ে উষ্কাকানীমূলক স্লোগান দিচ্ছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিশনাল এসপি) রাসেল শেখ সাংবাদিকদের জানান, এলাকার শান্তি-শৃংখলা বাজায় রাখার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে জাতীয় পার্টিকে স্থান পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এলাকায় আইন-শৃংখলার অবনতির আশংকা থাকলে আয়োজকদের অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বলবো।

আরও পড়তে পারেন: টাঙ্গাইলের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান সমাপ্ত, অস্ত্রসহ দুই ভাই আটক