পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার আলীর কাছে গ্রাম্য প্রধান ও আওয়ামী লীগ নেতা লিটন মিয়া মসজিদের অনুদানের টাকার হিসেব চান। এ হিসেব চাওয়াকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে ওই গ্রামের দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে লিটন গ্রুপের জুয়েল, বাবুল ও ইকবাল দড়িকান্দি বাস স্ট্যান্ড থেকে চা পান করে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় আনোয়ার আলী গ্রুপের জসিমউদ্দিন, বিল্লাল, আনোয়ার আলী, হাকিম, সুমন ও মোমেনসহ-১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল লিটন গ্রুপের লোকজনকে গতিরোধ করে। এ সময় তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে আনোয়ার আলীর লোকজন লাঠিসোটা, দা, বল্লম, ও হকিস্টিক নিয়ে লিটন গ্রুপের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। হামলায় জুয়েল, বাবুল, খোরশেদ, ইকবাল, আমির হোসেনসহ ৯জন আহত হয়। এ সময় আনোয়ার আলীর পক্ষের জসিমউদ্দিন আহত হয়। আহতদের মধ্যে লিটন গ্রুপের জুয়েল নামের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যায়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই আনোয়ার আলীর পক্ষের বিল্লাল হোসেন ও লিটন প্রধানের পক্ষের ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এদিকে, এ ঘটনায় লিটন গ্রুপের ইকবাল বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করায় ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার বিকেলে পুনরায় আনোয়ার আলীর নেতৃত্বে ২০-২৫জনের একটি দল লিটন গ্রুপের ৭-৮টি বাড়িঘর ভাঙচুর করে লুটপাট চালায়।
এ বিষয়ে লিটন গ্রুপের ইকবাল হোসেন বলেন, ‘মসজিদের হিসেব চাওয়ায় তার লোকজন আমাদের উপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়ায় শুক্রবার বিকেলে পুনরায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। বর্তমানে আমরা গ্রামের বাইরে অবস্থান করছি।’
এ বিষয়ে আনোয়ার আলী মেম্বার বলেন,‘পূর্ব শত্রুতা ও বাগবিতণ্ডার জের ধরে লিটনের লোকজন আমার ভাইকে কুপিয়ে আহত করেছেন। এরপর রাতে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। তাছাড়া মসজিদের হিসেব এলাকার লোকজনকে দেওয়া হয়েছে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম পিপিএম বলেন,‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’