ম্যাজিক বাক্সে রেখে টাকা দ্বিগুণ করে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে এক গার্মেন্ট ব্যবসায়ীর দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় প্রতারক চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান।
গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ২৬ হাজার টাকা সমমূল্যের মার্কিন ডলার, নগদ ৩ লাখ চল্লিশ হাজার টাকা, বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন, পাসপোর্ট ও বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্ট এর জমা এবং চেক বই উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে চাদঁপুর জেলার ইমামপুর গ্রামের মফিজুল ইসলাম শান্ত, গাজীপুর জেলার সাতখামাইর এলাকার এমদাদুল হক আকন্দ ও তার ভাই কামরুজ্জামান আকন্দ, কিশোরগঞ্জের বাগপাড়া এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খাঁন শাফি, আমিরুল খাঁন ও মজিবর খাঁন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, ঢাকার বারিধারা (ডিওএসএই্চ) এলাকার সুপ্তি গার্মেন্টের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মামুনের চলতি বছরের ১৩ মার্চ একটি প্রতারক চক্রের সঙ্গে পরিচয় হয়। ওই প্রতারক চক্র মামুনকে প্রলোভন দেখান তাদের কাছে একটি ম্যাজিক বক্স আছে। যে বক্সে টাকা দিলে দ্বিগুন হয়ে যায়। ব্যবসায়ী মামুন ওই প্রলোভনে পড়েন। চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল ওই চক্রের সদস্য মফিজুল ইসলাম মোবাইল ফোনে ব্যবসায়ী মামুনকে জানান, ২০ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ শহরের গ্র্যান্ডহল চাইনিজ রেস্টুরেন্টে জাতীয় পরিচয় পত্র, ব্যবসায়ীক কাগজপত্রসহ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার সমপরিমাণ ডলার নিয়ে চলে যেতে বলেন। তাদের কথা মতো তিনি ডলারসহ ওই রেস্টুরেন্টে যান। সেখানে প্রতারক মফিজুল ইসলাম ওই চক্রের অন্য সদস্যেদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। পরে সে আরও ৫০ হাজার টাকা আনতে বলেন। পরে তাদের কথা মতো ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান মামুন আরও ৫০ হাজার টাকার একটি বান্ডিল দেন। এসময় তারা টাকার মধ্যে কিছু একটা স্প্রে করে বাক্সে রেখে দেয়।
তিনি আরও জানান, পরে তাকে জানানো হয় এটা একটা ম্যাজিক বাক্স। এখানে টাকা রাখলে টাকা দ্বিগুন হয়ে যায়। পরে তারা ওই বাক্স থেকে এক লাখ টাকার একটি বান্ডিল ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দেয়। তাদের এই কর্মকাণ্ড দেখে তিনি বিশ্বাস করেন। তারা ২৯ জুলাই ব্যাবসায়ীর অফিসে গেলে তিনি প্রতারক চক্রের হাতে ২ কোটি এক লাখ টাকার সমপরিমাণ ডলার তুলে দেন। পরে প্রতারক চক্র কৌশলে বাক্স পরিবর্তন করে অন্য একটি বাক্স অফিসে রেখে বলে টাকা আপনার একাউন্টে চলে যাবে। আপনার একাউন্টে চার কোটি টাকা জমা হলে এই বাক্সটি নিয়ে যাব। এই কথা বলে প্রতারক চক্র দ্রুত অফিস থেকে চলে যায়। সন্দেহ হলে ব্যবসায়ী বাক্সটি খুলে দেখেন বাক্সের ভেতরে ছাই রয়েছে। তার পর থেকে প্রতারক চক্রের সব মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ঘটনার প্রায় দুই মাস পর ৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান ৬ জনকে আসামি করে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারক চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করে। এসময় তাদের দেওয়া তথ্যমতে নগদ টাকা ও ডলারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা (উপ-পরিদর্শক) মফিজুল ইসলাম জানান, গ্রেফারতারকৃত প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। সেগুলি আমারা খতিয়ে দেখছি। প্রতারক চক্রের ছয় সদস্যকে শুক্রবার আদালতে পাঠিয়ে ছয়দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। আদালত প্রতারক আমিরুল ও কামরুজ্জামানকে তিন দিন এবং মফিজুল ইসলাম শান্ত, এমদাদুল হক আকন্দ, সাবেক চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খাঁন শাফি ও মজিবর খাঁনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
আরও পড়তে পারেন: বেলাবোতে আওয়ামী লীগে যোগ দিলেন অর্ধশতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী